চট্টগ্রাম ব্যুরো:
গেল বছরের ৮ আগস্ট চাঁদাবাজির দায়ে বহিস্কৃত হন নগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ চৌধুরী লিমন। ওইসময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা জারি করলেও নিজেরাই ভাঙলেন সেই নির্দেশনা। এবার বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতার ড্রাইভিংয়েই কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে গাড়িতে চড়তে দেখা যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ মে) সন্ধ্যায় তাকে বহনকারী গাড়ির চালকের আসনে দেখা গেল বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতা, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ চৌধুরী লিমনকে। আর এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, বহিস্কার যদি নামমাত্র করা হয় তাহলে সেই বহিস্কারের মূল্য কি? এভাবে অপরাধ করেও যদি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে চলাফেরা করতে পারেন তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা বলতে আর কিছু থাকে না।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১০মে তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ উপলক্ষে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে চট্টগ্রাম অবস্থান করছেন। কিন্তু ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রটোকলে সার্বক্ষণিক দেখা যায় আসিফ চৌধুরী লিমনকে। এমনকি আসিফ চৌধুরী লিমনের গাড়িতে করেই ছাত্রদল সভাপতিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার হোটেল আগ্রাবাদ থেকে নগরের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এসময় তাকে বহনকারী গাড়িটি চালান আসিফ চৌধুরী লিমন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির ড্রাইভিং সিটে একজন বহিষ্কৃত নেতা থাকাটা দু:খজনক। বহিষ্কারকে মামুলি বিষয়ে পরিণত করলে এটি সংগঠনের চেইন অব কমান্ড নষ্ট করতে পারে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার দায়েই তাকে অব্যাহতি দেওয়া৷ এরপর তাকে কেন্দ্রীয় নেতার পাশে দেখা গেলে জনগণের কাছে সংগঠন সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে।
জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অস্বাভাবিক অবনতি ঘটলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেকেই নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। দলীয় হাইকমান্ড থেকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন। অপকর্মের দায়ে অনেকেই বহিস্কৃতও হন দল থেকে।
গত বছরের ৮ আগস্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আসিফ চৌধুরী লিমনকে। ওইদিন কেন্দ্রীয় সংসদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ চৌধুরী লিমনকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তার সাথে ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে কোন ধরনের যোগাযোগ না রাখার জন্যও নির্দেশ দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসির উদ্দিন নাসির।
এর আগে ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আসিফ চৌধুরী লিমনের বিরুদ্ধে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই তরুণী সমাজসেবামূলক সংগঠন লায়ন্স ক্লাবে যুক্ত আছেন। এই সূত্রে ছাত্রদল নেতা আসিফ চৌধুরী লিমনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে ২০২০ সালে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ছাত্রদল নেতা ওই তরুণীকে মায়ের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে চট্টগ্রাম আসতে বলে। পরে তরুণী নগরে আসলে নগরের বায়েজিদ থানার অক্সিজেন নয়াহাট এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সেসময় তিনি মামলাটি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। মামলাটি আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অব্যাহতি পাওয়া নেতা কেন্দ্রীয় সভাপতির গাড়ির চালানোর বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠালেও উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। এরকম কোন নেতা সাংগঠনিক কাজে থাকার কথা নয়।ব্যক্তিগতভাবে হয়তো রয়েছে। তারা সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নাই। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি।