চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ ৩ নম্বর নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তরুণ সমাজকর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিক কাউসার সিকদার। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা এই তরুণ নেতার প্রার্থী হওয়ার খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নারায়ণহাট ইউনিয়নে এক ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা বিরাজ করছে। বর্তমান চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় দাপ্তরিক কাজে জটিলতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সাধারণ নাগরিকরা ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে যোগ্য ও দায়বদ্ধ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন ইউনিয়নবাসী।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত পরিচিতি:
কাউসার সিকদার নারায়ণহাট ইউনিয়নের শৈলকুপা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জুর আলী সিকদার পরিবারের সন্তান। বংশপরম্পরায় এই পরিবারটি এলাকায় দানশীলতা ও সামাজিক কাজের জন্য সমাদৃত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য। এছাড়াও তিনি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দুই দশকের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড:
বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে কাউসার সিকদার নারায়ণহাটের সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান:
ধর্মীয় ও অবকাঠামো উন্নয়ন: দাতা সংস্থার সহায়তায় মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ ও রাস্তাঘাট সংস্কার।
চিকিৎসা ও বিয়েতে সহায়তা: অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো এবং দরিদ্র পরিবারের কন্যাদের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান।
ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা: প্রতি বছর শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ সামগ্রী ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন।
জরুরি সহায়তা: অগ্নিকাণ্ড বা সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
কাউসার সিকদারের অঙ্গীকার: নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কাউসার সিকদার বলেন, “আমি দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের জন্য কাজ করছি। এখন সময় এসেছে একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত ইউনিয়ন গড়ার। ইনশাআল্লাহ, আমি নির্বাচিত হলে নারায়ণহাটকে একটি পরিকল্পিত, নান্দনিক ও জবাবদিহিতামূলক ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাব।”
স্থানীয়দের মতে, কাউসার সিকদারের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। একজন শিক্ষিত ও তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্থবির হয়ে পড়া ইউনিয়ন পরিষদকে গতিশীল করতে পারবেন বলে সাধারণ ভোটাররা আশা প্রকাশ করছেন।