চট্টগ্রাম বুলেটিন

নিঃস্বার্থ রাজনীতির ধ্রুবতারা: ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের রাজনীতি ও গণআন্দোলনের ইতিহাসে কিছু নাম মানুষের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে গেঁথে আছে। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে রাজপথের দীর্ঘ আন্দোলন, কারাবরণ আর অদম্য সাহসিকতার এক অনন্য নাম ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছেন আস্থার শেষ ঠিকানা।

তৃণমূল থেকে উত্থান:

১৯৬৫ সালের ৩১ অক্টোবর সন্দ্বীপের মুছাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বেলায়েত হোসেন। পিতা মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মাতা মনিরা বেগমের আদর্শে বেড়ে ওঠা এই নেতা শৈশব থেকেই ছিলেন সমাজসচেতন। শিক্ষা জীবনে অত্যন্ত মেধাবী বেলায়েত হোসেন ১৯৭৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্ররাজনীতির অগ্নিপরীক্ষা:

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নকালেই তাঁর নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং ছাত্র সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

সংগঠন ও নেতৃত্ব:
ছাত্ররাজনীতি শেষে মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে সুসংগঠিত করতে নিরলস কাজ করেছেন তিনি। সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির ১নং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজপথের লড়াই ও কারাবরণ:
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে সহ্য করতে হয়েছে অমানুষিক জুলুম ও নির্যাতন। তাঁর বিরুদ্ধে মহানগর ও বিভিন্ন থানায় মোট ২৪টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। দলের দুর্দিনে রাজপথ না ছাড়া এই নেতাকে ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে মোট চারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। জীবনের মূল্যবান ১৫টি মাস তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন, তবুও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

নির্বাচনী রাজনীতি ও জনভিত্তি:
২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি কারাবন্দী থাকা অবস্থায় দল তাঁকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়, যা তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার এক বড় প্রমাণ।

মানবিক ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব:

রাজনীতির বাইরেও ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন একজন মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণ সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার কারণে তিনি সন্দ্বীপের প্রতিটি ঘরে একজন অভিভাবক হিসেবে সমাদৃত।

তৃণমূলের দাবি:
সন্দ্বীপের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের মতো ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। দলের দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে থাকা এই নেতাকে আগামীতে চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, দলের হাইকমান্ড এই সংগ্রামী নেতার অবদানকে মূল্যায়ন করবে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের রাজনৈতিক জীবন কেবল একটি পদের লড়াই নয়, বরং এটি একটি আদর্শ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর তাঁর এই জীবনকাহিনি সন্দ্বীপের মানুষের মুখে মুখে চিরকাল উচ্চারিত হবে।

Tags :

সর্বশেষ