মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বাহরাইনে ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি এস এম তারেকের নামাজে জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় নগরীরর হালিশহরের বউবাজারের ঈদগাঁ এলাকায় একটি মসজিদে তার নামাজে জানাযা শেষে সেখানেই কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানসহ, বিএনপি, জামায়াত ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে প্রবাসী এস এম তারেকের মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সেটি গ্রহণ করেন। সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি দেশে আনা হয়।

শনিবার সকালে নগরীর হালিশহরের বাড়িতে তার মরদেহবাহী গাড়িটি পৌঁছে। বেলা সাড়ে এগারোটায় হালিশহরের বউবাজার ফজুমিয়া কন্ট্রাকক্টর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সেখানে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন সিকদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী ও শতশত বাসিন্দারা অংশ নেন। পরে হালিশহরেই একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এসময় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, নিহত প্রবাসীর পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ টাকা এবং বীমার ১০ লাখ টাকা দেয়া হবে।
জানা যায়, গত ২ মার্চ বাহরাইনের রাজধানী মানামা-র কাছে আল হিদ ড্রাইডক এলাকায় আরব শিপবিল্ডিং রিপেয়ার ইয়ার্ডে ক্ষেপনাস্ত্র আঘাত হানলে তারেক (৪৮) নিহত হন এবং আরও দুইজন বাংলাদেশি আহত হন। বাংলাদেশী প্রবাসী এস এম তারেক ওই শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে। তিনি ওই এলাকার পাহাড়েরগো বাড়ির মৃত ছায়েদুল হকের ছেলে। তবে তার পরিবার নগরীর হালিশহরে থাকতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে তিনি প্রবাসে ছিলেন। ১৮-১৯ মাস পরপর তিনি বাংলাদেশে আসতেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।