যমুনা অয়েলের তিন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে কোম্পানিটি। এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ’’আওয়ামীপন্থি সিবিএ নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র যমুনা অয়েল’’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায়। এতে যমুনায় আওয়ামীপন্থি সিবিএ নেতা ও শ্রমিকলীগ নেতাদের দাপট এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র ওঠে আসে। দীর্ঘ দিনের বলয় প্রতিষ্ঠিত রেখে আওয়ামী লীগের সিবিএ ও শ্রমিক নেতারা কিভাবে তেল পাচার, অবৈধ ছুটি কাটানো ও বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করছিল তা তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ এয়াকুব, জয়নাল আবেদীন ও আবুল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনজনই নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে৷ এছাড়াও তাদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের হত্যার অভিযোগ ওঠে৷ ইতিমধ্যে সেই দুজন গ্রেপ্তার হয়ে কারা ভোগ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যমুনার এইচআর বিভাগের ডিজিএম মোহাম্মদ হাসান ইমাম স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তিনটি আদেশই আমার দেশের হাতে এসেছে। ডিজিএম মোহাম্মদ হাসান ইমাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, যমুনার ফতুল্লা ডিপোর গেজার (পিএফ নং: ১৭৩) মো. জয়নাল আবেদনীকে সাময়িক বরখাস্তসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলো। এতে দুটি বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়। এগুলো হলো, ৫ আগস্টের পর মাসে দুয়েকদিন ডিপোতে এসে একসাথে মাসের সবগুলো দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়টি হলো, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি একমাসের ছুটি ভোগ করার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি অফিস করে পুনরায় ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ বিশেষাধিকার ছুটির আবেদন করা হয়। কিন্তু আবেদন করেই অনুপস্থিত রয়েছেন জয়নাল আবেদীন। কোম্পানীর ছুটি গ্রহণ নীতিমালা অনুসারে ছুটি অনুমোদনের পর ছুটি ভোগ করা যায়। ছুটির দরখাস্ত দিয়ে অনুপস্থি থাকা নীতিমালার পরিপন্থি। শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে যা গুরুতর অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। আনিত অভিযোগগুলো গুরতর বিধায় আপনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো যা আপনার অনুপস্থিতির দিন থেকে কার্যক্র হবে। বরখাস্তকালিন সময়ে আপনাকে নিয়মানুযায়ী জীবিকা ভাতা প্রদান করা হবে।
এছাড়াও যমুনার অপারেটর (সি: টেক) (পি এফ নং-১৪০) আবুল হোসেনকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে আবুল হোসেন গত বছরের ২১ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষাধিকার ছুটি নিয়ে যান। ছুটি শেষ হলেও অদ্যাবদি কাজে যোগদান করেননি। তথ্য মতে আপনাকেস কোতোয়ালি থানায় একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এমতাবস্থায় আপনাকে কোম্পানীর চাকুরী থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ইস্যু করা হবে। একইভাবে উর্ধ্বতন কম্পিউটার অপারেটর এয়াকুবকেও সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তাকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চান্দগাঁও থানার একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তিনি কারাগারে গেছেন। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত থাকার তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। ৩০ দিন বিশেষায়িত ছুটি ভোগের পরও চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি থেকে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন।