#দ্বীপজুড়ে তীব্র সমালোচনা
সন্দ্বীপ সংবাদদাতা:
চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে সদ্য যোগ দেওয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আসলাম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসাদাচরণ ও মাদকাসক্ত অবস্থায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অভিযোগ ওঠেছে৷ শুধু তাই নয় তার কাণ্ডে সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকলেই বিব্রত। ইতিমধ্যে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়ার দিয়েছেন৷
শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রায়সময় মদ্যপ পান করে স্কুলে স্কুলে পরিদর্শক হিসেবে যাচ্ছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম খান। এসময় মদ পানের জন্য প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে টাকাও চেয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার এমন কাণ্ডে শিক্ষক সমাজ ও উপজেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হচ্ছে৷ তেমনি শিক্ষা প্রশাসনের শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়ছে৷ মাদকাসক্ত কর্মকর্তা পদায়ন হওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেছেন। তাকে শিক্ষক থেকে শুরু করে নিজ দপ্তরের কর্মচারী ছোট-বড় কেউই আমলে নিচ্ছেন না৷
সন্দ্বীপের সচেতন বলছে, এভাবে মাদকাসক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে শিক্ষা বিভাগ চলতে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে৷ তিনি যেভাবে মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে যাচ্ছেন এবং নানা আপত্তিকর আচরণের মাধ্যমে উদ্ভুত কাণ্ড ঘটাচ্ছেন শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাও কমে আসবে শিক্ষার্থীদের।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। এতে দেখা যায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আসলাম খান তার দপ্তরের সামনেই খালি গায়ে ‘ইউএনও চ্যাম্পিয়ন, ইউএনও চ্যাম্পিয়ন’ বলে চিৎকার করছেন।ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নানারকম অসংলগ্ন আচরণ করছেন। তিনি বলছেন,, “বক্তব্য নিতে মদ খেয়ে আসতে হবে” “এক মিনিটে আমি হত্যা করতে পারি, অত সময় নেই না। এসময় তাকে অপ্রকাশযোগ্য নানা শব্দও ব্যবহার করতে শোনা যায়৷
অভিযোগ ওঠেছে, গত একমাস আগে আসলাম খান সন্দ্বীপ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে প্রকাশ্যে মদ পান করে মাতলামি, দপ্তরেই ধূমপান শুরু করেন। তার এমন কাণ্ডে শুরু থেকেই বিব্রতবোধ করেন দপ্তরের সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি দপ্তরের বাইরে প্রায়সময় তিনি উপজেলা পরিষদ ও আশেপাশের এলাকায় সামাজিকতা এড়িয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে মূত্রত্যাগ করেন। যা রীতিমতো তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে৷
অপরদিকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা অনৈতিক অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়াও বিগত সময়ে দায়িত্ব পালন করা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) অসম্মান করার অভিযোগ উঠেছে আসলাম খানের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ একজন অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, নতুন শিক্ষা অফিসার আসলাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই অফিস কম্পাউন্ডে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। কখনও মাতাল অবস্থায় অফিসে আসেন তিনি। আমরা ধারণা করছি তিনি সারারাত মদপান করেন।
একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, আসলাম খান সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলায় কর্মরত শিক্ষকদের সভায় নারী পুরুষ সকলের সামনে ধূমপান করেন। এমনকি নারী শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য ও ‘বিয়ের প্রস্তাব’ পর্যন্ত দেন।
একটি দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট জানান, “আমার ৫৫ বছরের চাকরি জীবনে এমন শিক্ষা অফিসার কখনো দেখিনি। গত ২১ অক্টোবর তিনি আমার মাদ্রাসায় আসেন এবং প্রায় জোরপূর্বক এক হাজার টাকা নিয়ে যান৷ তার আচরণ দেখে এলাকার মাতাল মনে হয়েছে৷ নিজেই লজ্জিত হয়েছি এমন শিক্ষা কর্মকর্তার অধীনে কাজ করতে হচ্ছে৷
নাম প্রকাশ না করে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আসলাম খান যোগদানের পর প্রথম পরিচয় পর্বের সভায় যেভাবে দুর্ব্যবহার ও অশালিন আচরণ করেছেন, এ ধরণের নৈতিক দুর্বলতা নিয়ে কিভাবে উপজেলার ৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেখাশোনা করবেন আমার জানা নেই।
সন্দ্বীপ কলেজ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি নিঝুম খাঁন জানান, “একজন প্রধান শিক্ষিকাকে অশালীন আচরণ ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে সকল নৈতিকতার মান হারিয়েছেন তিনি। আমরা তার কাণ্ডে বিব্রত। সকল স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষকরা এই বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সন্দ্বীপ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আসলাম খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজী হননি।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মংচিনু মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত একাধিক মৌখিক অভিযোগ তিনি পেয়েছেন৷ তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন।”