নিজস্ব প্রতিবেদক
সন্দ্বীপে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মুছাপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মান্দী গো রোড, মাইট ভাঙ্গা, মুছাপুর সীমানা এলাকা এবং এনামনাহার মোড় থেকে ধোপারহাট পর্যন্ত সড়কগুলোতে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের হোতা হিসেবে কাজ করছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল কাদের ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তসলিম উদ্দিন। তাদের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল এলাকায় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা বর্তমানে কাদের ও তসলিমের আশ্রয়ে স্বাভাবিকভাবেই সব ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে। অন্যদিকে, কিছু নির্দিষ্ট হামলার ঘটনায় হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সম্প্রতি এতোটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে যে তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করছে। গত কয়েক দিন আগে মুছাপুর ধোপারহাটে সরাসরি অস্ত্র হাতে নিয়ে মুছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মনজুর উপর হামলা চালায় আফছার, তামিম, সাদ্দাম ও রাফি। এই হামলায় মনজু মারাত্মকভাবে আহত হন।
এ ছাড়া গত ২৫ মার্চ সন্দ্বীপ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ওমান প্রবাসী রুবেলের ওপর দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সন্ত্রাসী আনোয়ার, সাইফুল, মোমিন ও তাদের সহযোগীরা রুবেলের কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা এই হামলা চালায় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের কারণে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও বেড়েছে। গত ১৩ মার্চ মুছাপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দরিদ্র মজহারুল ইসলামের ছাগল চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও গত শনিবার ( ২৮ মার্চ) সারিকাইত ইউনিয়নে একটি হামলার ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে জানা গেছে।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ, জীবনের নিরাপত্তা এবং এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও তাদের আশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহেদ নূর বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব। আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে আমাদের কার্যক্রম অব্যহত আছে।