অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সরকার কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছে, সে মূল্যায়নের ভার দেশের জনগণের ওপরই ন্যস্ত থাকবে।
সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি এ কথা জানান। নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে দেওয়া এ বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে কোথায় কতটুকু সাফল্য এসেছে কিংবা কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে—তার চূড়ান্ত বিচার করবেন জনগণ।
ভাষণে তিনি স্মরণ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের এক সংকটপূর্ণ সময়ে ছাত্রনেতাদের আহ্বানে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ছিল চ্যালেঞ্জপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজয়ী ও পরাজিত সব প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে হার-জিত স্বাভাবিক এবং এটাই এর সৌন্দর্য। পাশাপাশি সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রে তাঁর সরকার কাজ করেছে বলেও জানান।
ভাষণের শেষাংশে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।