চট্টগ্রাম বুলেটিন

সিভিল সোসাইটির লার্জ পোর্শন ‘শিবির’কে আজীবন জিইয়ে রাখতে চায় মাঠের শত্রু হিসাবে

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত লিখেছেন, আপ বাংলাদেশের সদস্যরা এনসিপিতে যুক্ত হওয়ায় যদি এনসিপি জামায়াতের দোকান বা বি টীম হয়ে যায় তাহলে মুসলিম লীগের সদস্যদের নিয়ে দল গঠন করা বিএনপিকে কেন্দ্র মুসলিম লীগের দোকান বলা যাবে না। মূলত সিভিল সোসাইটির লার্জ পোর্শন শিবিরকে আজীবন জিইয়ে রাখতে চায় মাঠের শত্রু হিসেবে৷ তবে আপ বাংলাদেশের সদস্যরা যোগ দেয়ায় কেউ যদি আমাদেরকে জামায়াতের দোকান বলে  তাতে কিচ্ছু যায় আসে না।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখা সালেহ উদ্দিন সিফাতের পোস্ট হুবহু পাঠকের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হলো৷

শিবিরের কেউ রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান ত্যাগ করে ঘোষণা দিয়ে অন্য রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান গ্রহণ করলেও, আমাদের মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটি তাকে আজীবন শিবির হিসাবেই চিহ্নিত করে। এভাবে শিবির হয়ে ওঠে চিরস্থায়ী শত্রুবর্গ। যার কোনো শেষ নাই।

কিন্তু কেউ মুসলিম লীগ করে বিএনপিতে ঢুকলে তার মুসলিম লীগ পরিচয় নিয়ে কেউ ঘাটায় না। ছাত্র ইউনিয়ন করে বিএনপি-লীগে ঢুকলেও ছাত্র ইউনিয়ন পরিচয় থাকে না। জাসদ করে বিএনপি-লীগ-জামায়াতে ঢুকলেও তাকে কেউ জাসদ বলে না। এটা কেবল শিবিরের ক্ষেত্রেই হয়।

কারণ, এখানকার সিভিল সোসাইটির লার্জ পোর্শন ‘শিবির’কে আজীবন জিইয়ে রাখতে চায় মাঠের শত্রু হিসাবে। ফলে শিবিরের সবচেয়ে বড় শত্রু ও বন্ধু দুইটাই এরা। শিবিরের অনেক নেতা, বিশেষতঃ ঢাবি শিবিরের অনেক নেতা, নিজস্ব বুঝাপড়া ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ সহ অন্য অনেক কারণে জামায়াতের ট্র্যাডিশনাল ধর্মবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হতে চায় না, কিন্তু তাদেরকে সিভিল সোসাইটি কখনো শিবির থেকে বের হতে দেয় না। একটা বিশাল জনগোষ্ঠিকে এভাবেই মার্জিনালাইজ করে রাখা হয়।

তবে আমাদের সেই হীনম্মন্যতা নাই। কেউ যদি শতভাগ সত্যতার সাথে শিবিরের আদর্শ ত্যাগ করে এনসিপিতে আসতে চায়, তাকে শতভাগ সাধুবাদ জানাই। এতে আমাদেরকে কে বা কারা ‘জামাতের দোকান’ বা বি টিম বললো তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না।

Tags :

সর্বশেষ