চট্টগ্রাম বুলেটিন

সীতাকুণ্ডে পৌরসভার টোলের নামে চাঁদাবাজি: জনতার হাতে নাজেহাল চাঁদাবাজ অপু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গণপরিবহনে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়েছেন অপু নামে এক চিহ্নিত চাঁদাবাজ। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার টোল আদায়ের দোহাই দিয়ে পরিবহন খাতে ত্রাস সৃষ্টি করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার চাঁদাবাজির একটি ভিডিও ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
ভুক্তভোগী গাড়ি মালিক ও চালকদের সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায় চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত অবৈধভাবে টাকা আদায় করে আসছিল একটি চক্র। ঘটনার দিন সীতাকুণ্ড বাইপাসে (কাউন্টার) অভিযুক্ত অপু একটি চলন্ত গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি করেন। এসময় ভুক্তভোগী চালক ও গাড়ির মালিক সাহসের সাথে পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়:
ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, অপু অত্যন্ত উগ্রভাবে চালকের কাছ থেকে টাকা দাবি করছেন এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এই ভিডিওটি জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে ধাওয়া করে।

অভিযোগের নেপথ্যে:
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীতাকুণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার টোল আদায়ের বৈধ রসিদ ছাড়াই কিংবা রসিদ থাকলেও তার কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন চালকদের ভাষ্যমতে: নির্দিষ্ট হারের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক হেনস্তা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পৌরসভার নাম ব্যবহার করে প্রভাবশালী একটি চক্র এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। জড়িত রয়েছে রাজনৈতিক দলের কেউ কেউ। দীর্ঘ দিন ধরে সীতাকুণ্ড পৌরসভা প্রশাসক দিয়ে চলছে৷ অথচ চাঁদাবাজি থামছে না। বিশেষ করে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে আসা শতশত পর্যটকদের গাড়ি আটকে রীতিমতো চাঁদা আদায় করছে লাঠিয়াল বাহিনী।

বর্তমান পরিস্থিতি ও জনমত:
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনরোষের ভয়ে অভিযুক্ত চাঁদাবাজ আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা তাকে চিহ্নিত করে পুলিশে সোপর্দ করার দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, সীতাকুণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় এই ধরনের চাঁদাবাজি ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের ওপর ভাড়ার চাপ তৈরি করছে।

প্রশাসনের ভূমিকা:
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। টোল আদায়ের নামে কোনো ধরণের অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, তা সীতাকুণ্ডে চাঁদাবাজি বন্ধে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

Tags :

সর্বশেষ