চট্টগ্রাম বুলেটিন

সীতাকুণ্ডে স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের গুজবে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতের কেওড়া বনে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফলাইনেও আলোচনা সমালোচনা চলতে থাকে ঘটনাটি নিয়ে। শুধু তাই নয় ছাত্র প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ঘটনাটি জানতে থানায় ভিড় করে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীকে গণধর্ষণের কোন ঘটনাই ঘটেনি। বিষয়টি ছিল একটি গুজব। যদিও ওই তরুণীকে গণধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও পরিবার গিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় বহু মানুষ থানায় ভিড় করে। তবে শেষমেশ ওই তরুণী পুলিশের কাছে গণধর্ষণের শিকার হননি বলেই জবানবন্দি দিয়েছে। যদিও এর আগে স্থানীয় কিছু তরুণের কাছে ওই তরুণী গনধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু যুবক ওই তরুণীকে প্রশ্ন করছেন। তারা বারবার তার সঙ্গে কি ঘটেছে ঘটনা ঘটিয়েছে জানতে চাচ্ছেন। এ পর্যায়ে তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন করেন ওই তরুণরা। উত্তরে তখন তরুণী হ্যাঁ সূচক উত্তর দেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না ছাড়ার কথা বলে রেকর্ড করা হলেও সেটি বিভিন্ন মাধ্যমে দিয়ে দেন ভিডিও ধারণকারী তরুণরা।

জানা গেছে, ৮ মার্চ সকালে খালাতো ভাইসহ এক বন্ধুকে নিয়ে গুলিয়াখালি বিচ এলাকায় বেড়াতে যান নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী। ওইসময় তাকে উত্ত্যক্তের চেষ্টা করে কিছু বখাটে যুবক। প্রথমে তরুণী যেতে না চাইলে তাকে ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে তারা তাকে কেউ কেওড়া বনের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু তার খালাতো ভাই প্রেমিককে দেখে পালিয়ে যায় বখাটে যুবকরা। এরপরই স্থানীয় কিছু তরুণ মেয়েটির কাছে এসে কেওড়া বনের পাশে ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিওটিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তরুণী বিচারও দাবি করেন।
এদিকে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে গণধর্ষণের গুজব রটিয়ে দেন কিছু অতি উৎসাহী লোক।

যদিও থানায় এসে স্কুলছাত্রী ওসিকে বলেন, গুলিয়াখালি বিচ এলাকায় বেড়াতে গেলে তাকে আটকানোর চেষ্টা করে কিছু যুবক। ভয়ে চিৎকার দিলে তারা পালিয়ে যান।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, মেয়েটিকে তার মা বাবার সামনেই জিজ্ঞেস করেছি। সে জানিয়েছে কিছু বখাটে যুবক তাকে বিরক্ত করার চেষ্টা করে। তারা তাকে জঙ্গলের দিকে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়নি। এসময় তারা তাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে তাকে হাঁটিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল ওই বখাটে যুবকরা। পরে তার খালাতো ভাই ও বন্ধুকে দেখে পালিয়ে যায় সেই যুবকরা। আমরা এ ঘটনায় কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি এবং তাদেরকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে। ওসি আরো বলেন মেয়েটি গণধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা সেজন্য আমরা তার মেডিকেল পরীক্ষা করাবো। এরপরেই বলতে পারব আসল ঘটনা কি।

এদিকে ছাত্র প্রতিনিধি মো. আসাদুজ্জামানের অভিযোগ, মেয়েটি প্রথমে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করলেও থানায় এসে তার বক্তব্য পাল্টে ফেলেন। কেন সে এমনটি করেছে তা বোধগম্য নয়। হতে পারে ভয়ে, সামাজিক কারণে। বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।

সচেতন মহলের মতে, এখানে তরুণীর দোষ থাকতে পারে। যেখানে সে দুই তিন জন পুরুষ নিয়ে সাগর পাড়ে বেড়াতে গিয়েছে সেখানে অন্য ছেলেরা তাকে জোর করে বন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি হাস্যকর। আবার কেউ বলছেন, এটি মেয়েটির প্রেমিক ও বন্ধুর মধ্যে দ্বন্দ্বের একটি ঘটনা।

তবে সীতাকুণ্ডের স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনার রহস্য খুব দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন হোক।

Tags :

সর্বশেষ