চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দুই শক্তিশালী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং গোলাম আকবর খন্দকার তাদের নির্বাচনী হলফনামা জমা দিয়েছেন। নিচে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, আয় এবং মামলার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো।
১। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশা:
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তার হলফনামায় **রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বি.এ অনার্স সম্পন্ন করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, গোলাম আকবর খন্দকারও পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন।
২. ফৌজদারি মামলার বর্তমান অবস্থা:
মামলার বিষয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে বর্তমানে ৫টি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে এবং অতীতে তিনি ১৭টি মামলা থেকে খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। এর বিপরীতে গোলাম আকবর খন্দকারের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তবে অতীতে তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেগুলোর সবকটি থেকেই তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।
৩. বার্ষিক আয় ও আয়ের উৎস:
আয়ের ক্ষেত্রে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বার্ষিক আয় ৩১,০০,০০০ টাকা। যা মূলত তিনি পরিচালক ভাতা ও ব্যবসা থেকে অর্জন করেন। অন্যদিকে, গোলাম আকবর খন্দকারের বার্ষিক আয় প্রায় ১৬, ৪৪,১২৪ টাকা। তার আয়ের প্রধান উৎস হলো পরামর্শক পেশা (১০,৭৫,৪২৭ টাকা) এবং শেয়ার বা ব্যাংক আমানতের লভ্যাংশ।
৪. সম্পদ ও নগদ অর্থ:
নগদ টাকা:** গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নিজের নামে নগদ ১,৭২,৩২,২৫৪ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ৩,০৯,২৮,৩৩৩ টাকা রয়েছে। গোলাম আকবর খন্দকারের নিজের নামে নগদ ১,২২,৩০,০০৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ৯,৪২,২১০ টাকা জমা আছে।
জমি ও স্থাবর সম্পদ: স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে গোলাম আকবর খন্দকার এগিয়ে রয়েছেন। তার কাছে ৫,৫৬,৭৭,৫০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি রয়েছে। যেখানে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অকৃষি জমির মূল্য ১,১২,০০,৫০৯ টাকা। এছাড়া গোলাম আকবরের মালিকানায় ৫২,২৬,০০০ টাকা মূল্যের বাণিজ্যিক অ্যাপার্টমেন্টও রয়েছে।
৫. ঋণ ও আর্থিক দায়:
ঋণের পরিমাণের দিক থেকে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দায় অনেক বেশি। বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালক হিসেবে তার নামে **কয়েকশ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যার মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকে ২৯৭.৬০ কোটি এবং সোনালী ব্যাংকে ২০১.৬৩ কোটি টাকা উল্লেখযোগ্য। গোলাম আকবর খন্দকারের প্রতিষ্ঠানের নামে ইউনিয়ন ব্যাংকে ২৭,৮৩,৮১,২৫১ টাকার ঋণ** রয়েছে, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত অবস্থায় আছে।
৬. রাজনৈতিক ইতিহাস:
উভয় প্রার্থীই রাউজান আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি এবং ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একইভাবে গোলাম আকবর খন্দকারও ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সারসংক্ষেপ:
তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ব্যবসায়িক দিক থেকে এবং ঋণের পরিমাণে অনেক বড় অবস্থানে থাকলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, গোলাম আকবর খন্দকার বর্তমানে মামলাবিহীন একটি পরিচ্ছন্ন অবস্থানে আছেন এবং স্থাবর সম্পত্তিতে তার অবস্থান বেশ শক্তিশালী। এই দুই অভিজ্ঞ রাজনীতিকের মধ্যকার লড়াই রাউজানের নির্বাচনী আমেজকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।