জমি দখলের প্রতিবাদ করায় চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ব্যবসায়ীকে থানায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয় আগে থেকে মামলা প্রস্তুত করে রেখে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমন অভিযোগ এসেছে নগর পুলিশের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমানকে থানায় ডেকে নিয়ে মিথ্যা মামলায় চালান করান ওসি। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রিজ এলাকার ‘একতা প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি’র মালিক মোঃ নোমান। মাত্র ৩০ মিনিটেই মামলা রুজু করে নোমান নামের ওই ব্যবসায়ীকে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় রীতিমতো হতবাক ব্যবসায়ীর পরিবার ও স্থানীয়রা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১ মে) দুপুর ১২টার দিকে ওসি ইফতেখার উদ্দিন “একান্ত কথা আছে” বলে নোমানকে থানায় ডেকে নেন। তবে থানায় পৌঁছানোর পর দেখা যায়, ওসি নেই। তবে তার নির্দেশনায় আগে থেকেই একটি মামলা প্রস্তুত রাখা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে নোমানকে হ্যাণ্ডকাফ পরিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাজনৈতিক মামলায় আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
নোমান দীর্ঘদিন ধরে নতুন ব্রিজ এলাকায় বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার পরিবারের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির পরিচয়ে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তার ব্যবসা দখলে নিতে উঠে-পড়ে লেগেছে। চট্টগ্রাম বিএনপির এক শীর্ষ নেতার অনুসারীদের নেতৃত্বে ওই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল নতুন ব্রিজ এলাকায় যুবদল পরিচয়ধারী একটি দল জমি দখলের চেষ্টা চালায়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সেখানে আওয়ামী লীগ ক্যাডারের দখল করে করা খেলাধূলার টার্ফ দখলের পরিকল্পনা করে তারা। জমির প্রকৃত মালিকরা এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করলে তাদের পাশে দাঁড়ান ব্যবসায়ী নোমান। এরপর থেকেই তিনি চক্রটির টার্গেটে পরিণত হন বলে জানা গেছে।
নোমানের পরিবার জানিয়েছে, “নোমান একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার প্রয়োজনে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই ছবি থাকতে পারে। কিন্তু সেই ছবি দেখিয়ে থানায় ডেকে এনে মামলা দেওয়া কোনো মতেই কাম্য নয়।
নোমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রাসেল বলেন, “মে দিবসে আদালত বন্ধ থাকায় রবিবার শুনানি হবে। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত রাজনৈতিক মামলা। এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ওসি ইফতেখার উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।