চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক হত্যকাণ্ডে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে আওয়ামী অফিসার ও পলাতক ফ্যাসিস্টরা জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। একইসাথে তার অভিযোগ, রাউজানে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে। বিএনপির কতিপয় ব্যক্তির ইন্ধনে পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। মানুষকে হত্যা করে দ্রুত ওপারে পালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর সারাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও রাউজান স্বৈরাচারমুক্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার বিকালে নগরীর গুডস হিলে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাউজানে গত বছরের ৫ আগস্টের পর বিএনপির ১৯ জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। বেশিরভাগই ফ্যাসিস্ট হাসিনার দলের লোকের হাতে নিহত হয়েছেন। সীমান্তের ওপারে বসে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসে আমাদের দলের লোকদের মধ্যে পক্ষে বিপক্ষে কাজ করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিযোগিতা লাগিয়ে দিচ্ছে পলাতক ফ্যাসিস্টরা। তাদের হাতে প্রচুর টাকা। বিএনপিরই কতিপয় ব্যক্তি ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় তারা সেই টাকার অসৎ ব্যবহার করছে। সেই ছত্রছায়ায় তারা রাউজানে উন্মুক্তভাবে ঘুরাফেরা করছে, কিন্তু প্রশাসন নিরব। খুন করে দ্রুত বর্ডার ক্রস করছে সন্ত্রাসীরা। কয়েকদিন আগেও বিএনপির একজন কর্মীকে তার ঘরে ঢুকে হত্যা করা হয়। অথচ সে একজন ক্যান্সার রোগী।

তিনি বলেন, রাউজানে যেসব সন্ত্রাসী প্রশাসনের নজরে এসেছে তাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান অন্যতম। আমার প্রতিপক্ষ তাকে (রায়হান) আমার লোক বললেও মূলত তার সাথে অনেক নেতার ছবি আছে। যেকেউ প্রোগ্রামে এসে ছবি তুলতে পারে। বিএনপি নেতা মীর হেলালের সাথেও তার ছবি আছে। রায়হান শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের অনুসারী। আবার সাজ্জাদের সাথে মীর হেলালের ছবি আছে।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) বিএনপির দুই প্রার্থী থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, দল থেকে হাইকমান্ড আমাকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি দল আমাকে উপেক্ষা করবে না। ইতিমধ্যে আমাকে আনঅফিসিয়ালি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে চূড়ান্ত করার বিষয়টি। তবে ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে আমার নামে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে মনোনয়ন না দিলে যাকে দেবে তার জন্য কাজ করব। দল যদি আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন না দেয় তাহলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতাম। কিন্তু দলের প্রার্থী হিসেবে আমি ও গোলাম আকবর খোন্দকারের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় সেই সুযোগ এখন নেই।
তিনি বলেন, রাউজানে অস্ত্র উদ্ধারকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রশাসনের কোন সহযোগিতা গত ১৭ মাসে আমি পাইনি। তাই সম্পূর্ণভাবে আমি ১৭ মাস ধরে প্রশাসনকে এড়িয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের জন্য আলোচিত উপজেলা রাউজান। রাউজানে গত বছরের ২৯ আগস্ট থেকে এই পর্যন্ত ১৯ জন খুন হন। সবশেষ গত ৫ জানুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জানে আলম সিকদারকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব হত্যকাণ্ডের জন্য বরাবরাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকার পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছেন। এদিকে এই আসনে বিএনপি দুইজন প্রার্থী দিয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর যাচাই-বাচাই পর্বে দলের ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।