ক্ষমতা কল্যাণ নয় জনতার কল্যাণই হবে আমার লক্ষ্য চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেছেন, অতিতে ক্ষমতার কল্যাণ হয়েছে৷ জনতার কোন কল্যাণ হয়নি। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি তাই জনগণের ভোটের চিন্তা ক্ষমতাসীনরা করেনি। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেলে জনগণ ভালো মন্দ বিচার করে ৫ বছর পর পর ভোট দিতে পারে। তাহলে ক্ষমতাসীনের ভয় থাকে৷ আগামীতে নির্বাচিত হলে ক্ষমতার কল্যাণ নয় জনতার কল্যাণই হবে আমার মূল লক্ষ্য৷
বৃহস্পতিবার বিকালে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন তিনি৷ এসময় তিনি এই আসনের সার্বিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ক্ষমতার জন্য নয়, দায়িত্ব নিতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আসন থেকে বহু প্রভাবশালী এমপি ও মন্ত্রী নির্বাচিত হলেও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটি কোনো একক ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়, বরং পরিকল্পনাহীনতা, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দায়িত্বহীনতার দীর্ঘদিনের ফল।আমি স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিব। নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করব। এসব হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসক ও নার্স থাকবেন, যাতে সাধারণ রোগের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবেই সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যেন কাছাকাছি চিকিৎসা পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য। ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে, না পারলেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করব। এতে বড় হাসপাতালের চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।
দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে ডা. ফজলুল বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দুর্নীতি। বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যয় না হলে সাধারণ মানুষ সুফল পায় না। জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতা। ক্ষমতা একটি আমানত এই বিশ্বাস থেকেই আমরা দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, পরিবেশ রক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার। একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক চট্টগ্রাম গড়াই আমার লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এবং মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ নগরে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন৷