চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অস্ত্র হাতে বৈঠকে বিএনপি নেতার ভাইরাল হওয়া ছবির সেই অস্ত্রটি সরকারিভাবে লাইসেন্স করা। বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় নিজেই অস্ত্রটি হাতে নিয়েছিলেন তিনি। একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে আবু তাহের নামে ওই বিএনপি নেতার ছবিটি সামাজিকতার অংশ হিসেবে তোলা হয়। অভিযোগ ওঠেছে, লাইসেন্স করা অস্ত্রের ছবিটি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। বিভ্রান্তিকর ও নানা মিথ্যা তথ্যের ক্যাপশন দিয়ে ছবিটি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা যায়, গতকাল রোববার (২ মার্চ) বিকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যান ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবু তাহের প্রকাশ হাজী আবু তাহের। এর আগে তিনি একটি গ্রাম্য বৈঠকেও যোগ দেন। সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী এনামুল বারী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আইনুল কামালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে পাশ্ববর্তী অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে অস্ত্রটি হাতে নিয়ে রাখেন আবু তাহের। সেখানে সামাজিক সৌজন্যতার অংশ হিসেবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ছবিটি তুলেন। এতে দেখা যায়, আবু তাহের একটি শর্টগান হাতে বসে আছেন।
সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ডের সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু তাহের সৈয়দপুর ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে তিনি ব্যাপক গণসংযোগ চালান৷ এছাড়াও দলে ঐক্য ধরে রাখতে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। রোববার নিজ এলাকায় একটি বাড়িতে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যান আবু তাহের। এসময় কেউ একজন ইতিবাচকভাবে ছবিটি তুলেন। কিন্তুু পরে সেটি নিয়ে নানা রকম অপপ্রচার শুরু করে একটি মহল। নিরাপত্তা হুমকিসহ নানা আপত্তিকর ক্যাপশন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোস্ট করা হয়।
আবু তাহেরের ছেলে শেখেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন রুবেল জানান, আমার বাবার অস্ত্রটি সরকারি লাইসেন্স করা হয়। এটি একটি বিদেশী শর্টগান৷ একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিরাপত্তার জন্য অনেক আগে থেকে ওনার শর্টগান লাইসেন্স করা আছে। যেহেতু এটি পিস্তল নয় সেহেতু কোমরে রাখাও অসম্ভব। আর বর্তমানে একটি অস্ত্র রাখা অনেকটা দায়িত্বের মতো৷ একবার বেহাত হলে দুশ্চিন্তার শেষ থাকবে না। তাই তিনি নিজের হাতে রাখেন অস্ত্রটি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপিকে হেয় করতে এই ছবিটি কাজে লাগানো হচ্ছে। অথচ অস্ত্রটি বৈধ৷ একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এসব প্রোপ্রাগান্ডা চালাচ্ছে৷