জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের “রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড” বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। রোববার সংসদের মূলতবী অধিবেশনে তার বরাদ্দকৃত সময়ের চেয়ে এক মিনিট অতিরিক্ত সময়ে এই উত্তর দেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, একটি রম্য আলাপ করে শেষ করতে চাই৷ আমি বিরোধী দলীয় নেতাকে উইথ ডিউ রেসপেক্ট বলতে চায়, আপনি বলেছিলেন, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড, আমি মোটেও আপনার কথাটিকে একেবারেই ভুল বুঝিনি, আমি মনে করেছি আপনি হয়তো বলেছেন, আরে কিসের ফ্যামিলি কার্ড। আপনাদের তারেক রহমান সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। আপনারা জনাব তারেক রহমান সম্পর্কে জানেনই না। তিনি ফ্যামিলি কার্ডকে ছাপিয়ে কৃষক কার্ড থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন নিয়ে আসবেন বাংলাদেশের জন্য।
এসময় সাঈদ আল নোমান বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা হয়তো বলেছিলেন, তারেক রহমান ইতিবাচক সব কাজ দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবেন৷ এজন্য আমি তাকে ভুল চাইতে চাইনা, সংসদের অপরপক্ষে যারা রয়েছেন তাদেরকেও এতটুকু ভুল বুঝতে চাই না৷ আমরা সবাই পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করি। আমার সঙ্গে যিনি হেরেছেন তারও প্রতিনিধিত্ব করি আমি।
এর আগে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানকে ছয় মিনিট সময় বরাদ্দ দেন। এসময় চট্টগ্রাম নিয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামের পানির সমস্যা দীর্ঘ দিনের। সব জায়গায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সংযোগ নাই। মানুষকে পানির জন্য অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এটি জরুরী ভিত্তিতে নিরসন করতে হবে। এছাড়াও চট্টগ্রামে দুটি হাসপাতাল রয়েছে। একটি চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যেখানে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে প্রতিনিয়ত ছুটে যায়। অন্যটি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। আমি এটাকে দুটি বলতে চাই না। আমি বলব দেড়টা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপের কারণে মানসিক রোগের চিকিৎসা দূরের কথা শারীরিক জটিল সমস্যাগুলোর সমাধানও পাওয়া যায় না। তিনি বলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ২০০০ বেডের হলেও প্রকৃত অর্থে পাঁচশো মানুষকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে হাসপাতালটির৷ আর জেনারেল হাসপাতাল খুব বড় কোন হাসপাতাল নয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমার আসনে না হওয়াতে আমি ওই আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি, এটিতে সমস্যা সমাধান করার জন্য যা যা করতে হয় আমরা ইনশাল্লাহ করব। এসময় সাঈদ আল নোমান সকল সংসদীয় আসনে কমপক্ষে ৫০০ আসনের একটি করে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান সংসদে।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি চট্টগ্রাম অনেক অবহেলিত। আমরা অনেক মন্ত্রী-এমপি পেয়েছি। হয়তো আমার বাবাও তাদের একজন। কিন্তু চট্টগ্রাম মনে করে সে যা পাবার তা পায়নি। গত ৫৫ বছর ধরে যে চট্টগ্রামের স্বপ্ন দেখেছি সেই চট্টগ্রাম আজও দেখিনি আমরা। ২০০৩ সালে আমাদের মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া লালদিঘি ময়দানে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন এবং ক্যাবিনেটে তিনি এটি অনুমোদন করেছিলেন৷ যার ১৬ দফা ড্রাপট আমার প্রয়াত বাবা আব্দুল্লাহ আল নোমান নিজ হাতে করেছিলেন। সেই ষোল দফা আজও বাস্তবায়ন হয়নি, চট্টগ্রাম শুধু নামেই একটি বাণিজ্যিক রাজধানী রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ১৬ দফায় বাস্তবায়ন করা হলে চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে একটি আধুনিক সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রাম আর কষ্টে থাকবেনা, চট্টগ্রাম বারবার তার দুঃখ নিয়ে কথা বলবে না। সেদিন চট্টগ্রাম বলবে, এবার আমরা পেয়ে গেছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই চট্টগ্রাম যার স্বপ্ন আমরা গত ৫৫ বছর ধরে দেখে আসছি, হবে..হবে করে আজও হয়নি। এবার ইনশাআল্লাহ আমাদের অবিসংবাদিত নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা চট্টগ্রামকে সেই সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাব।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, শিক্ষা আমার খুব একটা ইচ্ছের জায়গা। অনেকে অনেক কথা বলতে পারে, কিন্তু আমি বলব মূল্যবোধ সম্পন্ন কারিকুলাম। আমি যেখানেই যাই মানুষ আমাকে বলে আপনারা শিক্ষা নিয়ে এমন একটা কাজ করুন। যেখানে আমাদের ছেলে মেয়েরা একটা মহান জাতির অংশ হতে পারবে৷
এর আগে বক্তব্যের প্রারম্ভেই সাঈদ আল নোমান প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বলেন, আমার প্রয়াত বাবা আমাকে যে দীক্ষায় দীক্ষিত করেছেন সেটি হল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ। আমি যাকে দেখে বড় হয়েছি তিনি প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজ আমি স্মরণ করতে চাই গত ১৭ বছর সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা যারা গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন যাদের বাস্তবতা নিজেদের হাতে ছিল না, ফ্যাসিবাদী সরকার যাদের সুখ কেড়ে নিয়েছিল, তাদেরকে স্মরণ করতে চাই। আমি আরো স্মরণ করতে চাই ২৪ এর জুলাই আগস্টে এই দেশের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, কৃষক, কৃষাণী, দিনমজুর, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী যারা তাদের বাসা-বাড়ী, ফ্ল্যাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকান সবকিছু ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল এবং রক্তের বিনিময়ে আমাদেরকে এই শান্তিপূর্ণ একটি বাংলাদেশ দিয়েছিল বসবাস করার জন্য৷ যারা বেঁচে আছেন তাদেরকে ধন্যবাদ দিতে চাই এবং যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।