সন্দ্বীপের মেঘনা-বিধৌত পলিমাটিতে বেড়ে ওঠা এক অদম্য প্রাণশক্তির নাম নুরুল মোস্তফা খোকন। দ্বীপের এক নিভৃত পল্লী থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও মেধা আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। শৈশব আর কৈশোরের দিনগুলোতে সন্দ্বীপের আলো-বাতাসে বড় হওয়া এই মানুষটি স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে পাড়ি জমান সুদূর কাতারে। সেখানে তাঁর কর্মদক্ষতা ও সততা তাঁকে কেবল পেশাগত সাফল্যই দেয়নি, বরং উপহার দিয়েছে এক বিশেষ পরিচিতি— ‘কাতারী মোস্তফা’। প্রবাস জীবনের সেই শুরু থেকেই মেধা আর পরিশ্রমের এক অর্পূব সমন্বয় ঘটিঢেছেন তিনি। যা তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে দেনি; শ্রম আর নিষ্ঠার মেলবন্ধনে তিনি গড়ে তুলেছেন সাফল্যের এক বিশাল সাম্রাজ্য।
সাফল্যের শিখরে আরোহণ করে আজ তিনি অঢেল অর্থ-বিত্ত ও সামাজিক সম্মানের অধিকারী। ঢাকা শহরে একাধিক নান্দনিক আবাসন, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম এবং নিজের জন্মভূমি সন্দ্বীপে তাঁর তৈরি সুরম্য অট্টালিকাগুলো যে কারো নজর কাড়বে। প্রবাসের মাটিতেও তাঁর রাজকীয় প্রাসাদ তাঁর সুদৃঢ় অবস্থানের জানান দেয়। বিলাস বহুল গাড়ির বহর আর প্রাচুর্যের মাঝে থেকেও নুরুল মোস্তফা খোকনের পায়ে মাটি রয়ে গেছে সবসময়। বিত্ত-বৈভবের জাঁকজমক তাঁর সরলতাকে বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি। নেই কোনো অহমিকা বা দম্ভ, বরং মানুষের প্রয়োজনে তিনি সবসময় হাত বাড়িয়ে দেন অকাতরে। তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য আর বিনয় যেন এক বিরল দৃষ্টান্ত। এখনও তিনি শোধা মাটির গন্ধে হারিয়ে যেতেন চান সন্দ্বীপের সেই মেঠো পথের গাঁয়ে।
৪৮ বছরের প্রবাস জীবন:
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নুরুল মোস্তফা খোকন ৮০ দশকের শেষি দিকে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। সেই থেকে আরব রাষ্ট্রে পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে সাফল্যে বীজ বুনতে শুরু করেন। যেই কথা সেই কাজ অনুসারে ফলও পেয়েছেন তিনি। গড়ে তুলেছেন একে একে বহু ব্যবসা-বাণিজ্য। বিশেষ করে কাতারে তার হাতে গড়া ‘’নিউ ফিউচার কোম্পানী এমএলএল এখন সারা বিশ্বের সুনাম কুড়াচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন উচ্চ বেতনে। যাদের ভাগ্যের চাকাও বদলে গেছে খোকনের হাত ধরে। এছাড়াও দেশে নানা ধরণের ব্যবসা গড়ার পাশাপাশি তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন বহু যুবকের। গুলশানে রয়েছে তার ‘’ রয়েল প্যৗারাডাইস’’ নামে একটি সুউচ্চ্ বিলাসবহুল দালান। সারাদেশে তার ছোটখাটে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অটোমোবাইল শিল্পে সফল নুরুল মোস্তফা খোকন এখন সন্দ্বীপ নয় শুধু সারাদেশের গর্ব বলেও মনে করেন অনেকে।

সমাজসেবায় নুরুল মোস্তফা:
জানা যায়, পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও সমাজসেবায় ডুবে থাকেন নুরুল মোস্তফা খোকন। তাঁর মনে পড়ে থাকে গ্রামের অসহায় মানুষের ঘরে। তারা কিভাবে খায়, কিভাবে চলবে তাদের জীবন এসব ভাবনায় মগ্ন হতে দেখা যায় তাঁকে হরহামেশাই। তিনি কেবল একজন সফল প্রবাসী বা ব্যবসায়ী নন, তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। তাঁর অনুদানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও মন্দির। ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসারে তাঁর ভূমিকা তাঁকে একজন সত্যিকারের আলোকিত মানবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ব্যক্তিগত জীবনের এক চমৎকার দিক হলো তাঁর সুরেলা কণ্ঠ, যা শুনলে ক্ষণিকের জন্য লোকসংগীতের কিংবদন্তি আবদুল আলীমের কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর এই টান তাঁকে মাটি ও মানুষের আরও কাছে নিয়ে গেছে। আধুনিক শিল্পীদের অনেকে যেখানে ফোন দেখে গান গাইতে থাকেন সেখানে অনন্য গুণের অধিকারী খোকন। অন্তত শতাধিক গান তার মুখে বুলি হয়ে ঘুরে সারাক্ষণ। বীণার সুর পেলেই ছন্দ তার মনে দোলা দেয় মুহুর্তেই।
আন্তর্জাতিক অবস্থান:
সন্দ্বীপের কৃতি সন্তান নুরুল মোস্তফা খোকন দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা দুটোই অর্জন করেছেন। গত চার দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আরব বিশ্বের দেশগুলোর সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক দেশের জন্য এখন এক বড় সম্পদ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক। আরব দেশগুলোর রাষ্ট্র প্রধানদের সাথেও রয়েছে কূটনৈতিক যোগাযোগ। সম্প্রতি আলবেরিয়ান রাষ্ট্রদূতকেও তার ঢাকার বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে দেখা যায়। যা সেউ উচ্চতর সম্পর্কের বার্তা দেয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নুরুল মোস্তফা খোকন দেশে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানী সংকটে দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সৃষ্টির কারিগর হিসেবে খ্যাত এই ব্যক্তি কূটনৈতিক চ্যানেল হিসেবে রাখতে পারেন বিরাট ভূমিকা।
রাজনৈতিক দর্শন:
রাজনৈতিক দর্শনে খোকন সন্দ্বীপের একজন বলিষ্ঠ প্রবাসী বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর মানবিক পরিচয় সবকিছুর ঊর্ধ্বে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে নুরুল মোস্তফা খোকনের মতো এমন বহুমুখী প্রতিভাকে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি বলে মনে করেন সচেতন মহল। মহলটি মনে করে, তাঁর অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং দেশপ্রেমকে কাজে লাগাতে পারলে রাষ্ট্র ও সমাজ বিশেষভাবে উপকৃত হবে। সন্দ্বীপের এই কৃতী সন্তান তাঁর কর্মের মাধ্যমেই বেঁচে থাকবেন অগুনতি মানুষের হৃদয়ে, হয়ে থাকবেন আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।