উৎসবের প্রাণকেন্দ্র: বইমেলা ও সিআরবি’র শিরীষতলা এবং ডিসি হিল
চট্টগ্রাম নগরের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে বৈশাখের প্রথম দিন থেকেই ছিল সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ডিসি হিল, ঐতিহ্যের ধারক সিআরবি শিরিষতলা এবং অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ রূপ নিয়েছিল এক টুকরো গ্রাম্য মেলায়। আধুনিক শিল্পজাত পণ্যের চাকচিক্য ছাপিয়ে এসব স্থানে পসরা সাজিয়ে বসেন মৃৎশিল্পীরা।
মাটির তৈরি পণ্যের নান্দনিক পসরা
মেলা প্রাঙ্গণগুলোতে চোখে পড়ে কুমোরদের নিপুণ হাতে তৈরি নানা রকমের সামগ্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: শৌখিন সামগ্রী: মাটির ব্যাংক, পুতুল, হাতি, ঘোড়া ও গ্রাম বাংলার চিরচেনা নকশা করা সরা। গৃহস্থালি পণ্য: মাটির সানকি, কলস, সরা-বাসন এবং রান্নার সরঞ্জাম। ঘর সাজানোর বস্তু: সুদৃশ্য টেরাকোটা, মাটির ফুলদানি এবং নকশা করা প্রদীপ।
বিক্রেতারা জানান, যদিও বছরজুড়ে আধুনিক প্লাস্টিক বা সিরামিক পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে, তবে পহেলা বৈশাখে মাটির সানকিতে পান্তা খাওয়া এবং বৈশাখী মেলা থেকে মাটির পুতুল কেনা বাঙালিদের কাছে এখনো এক অমোঘ আকর্ষণ।
আধুনিকতার ভিড়ে ঐতিহ্যের টিকে থাকা
মেলায় আসা দর্শনার্থীদের ভিড় বলে দিচ্ছিল যে, বাঙালির হৃদয়ে মাটির টান এখনো অমলিন। ডিসি হিল প্রাঙ্গণে ঘুরতে আসা নুর নবী রবিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, “সারা বছর আমরা কাঁচ বা স্টিলের জিনিসে অভ্যস্ত হলেও, নববর্ষের এই দিনে মাটির জিনিসগুলোর আবেদন অন্যরকম। এটি আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।”
যদিও বর্তমান বাজারে কৃত্রিম উপকরণের তৈরি পণ্যের ছড়াছড়ি, তবুও চট্টগ্রামের এবারের বৈশাখী উৎসবে কোনো আধুনিক প্লাস্টিক বা যান্ত্রিক শিল্পের দাপট সেভাবে চোখে পড়েনি। বরং মৃৎশিল্পের এই বিপুল সমাহার প্রমাণ করেছে যে, বাঙালিরা তাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে ভালোবেসে আজও আগলে রেখেছে।