চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ছিলিমপুর আবাসিক এলাকায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ১৮ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পুকুর মালিক নজরুল কবির দীপু থানায় মামলার প্রস্তুুতি নিচ্ছেন। নজরুল কবির দীপু চট্টগ্রামের স্থানীয় সাপ্তাহিক একুশে পত্রিকার সম্পাদক৷
বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটায় সিডিএ ছিলিমপুর আবাসিকে এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি পুকুর মালিক টের পান দুপুরে৷ পরে স্থানীয়দের ডেকে বিষয়টি দেখালে তারা বিষ প্রয়োগের ঘটনা আঁচ করেন৷
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আড়াই একরের পুকুরটি নানা ধরণের ফলমূলসহ সবুজ গাছপালায় ঘেরা। মুরগি, হাঁসের একাধিক খামারসহ শাক সবজির আবাদ রয়েছে। পুকুরটির চারপাশে অসংখ্য মৃত মাছ ভাসছে৷ খামারের শ্রমিকরা সেগুলো নৌকা দিয়ে কুড়িয়ে নিচ্ছেন। মাছগুলো বিষ খাওয়ার কারণে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। বেশিরভাগ মাছ তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয়৷

ভুক্তভোগী নজরুল কবির দীপু জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। আমি নিরাপত্তা প্রহরীর কাছ থেকে সকাল ৭টায় খবর পেয়ে পুকুরে এসে দেখি অনেকগুলো মাছ মরে ভাসছে৷ আমি ভাবলাম হয়তো এমোনিয়া ঠিক না থাকায় অল্প কিছু মাছ মরে যাচ্ছে৷ পরে বেলা বাড়তেই সব মাছ মরে পুকুর ভরে গেল৷ আমি সকালেই পুকুরের এমোনিয়া, পিএইচসহ অন্যান্য প্যারামিটার মেপে দেখি সব ঠিকঠাক৷ আমি মৎস্য বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছি পুকুরে রাসায়নিক বিষ দেওয়া হয়েছে৷ এমনকি ভোরে দুইজন ব্যক্তির আনাগোনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, কেবল ৬২ হাজার পিস তেলাপিয়া মাছ ছেড়েছি পুকুরে৷ অন্যান্যসহ ৮০ হাজার পিস মাছ গত এক বছর ধরে তিনজন কর্মচারী পরিচর্যা করছেন৷ এতে ৪০ হাজার পিস অর্থাৎ ১০ টন মাছের দাম হিসেব করলেও ১৮ লাখ টাকা দাঁড়ায়৷ এখন করব ভেবে পাচ্ছি না৷
আবাসিক এলাকার স্থানীয়রা জানান, নজরুল কবির দীপু চট্টগ্রামের স্থানীয় সাপ্তাহিক একুশে পত্রিকার সম্পাদক৷ তার বাড়ির পাশেই তিনি পুকুরটি লীজ নিয়ে মাছ চাষসহ কৃষি খামার গড়ে তুলেছিলেন৷ ধারণা করা হচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ কাজ করেছে।