চট্টগ্রাম বুলেটিন

চট্টগ্রাম বন্দরে এক মাস পেছাল নতুন শুল্ক আদায়

চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন শুল্ক আদায় এক মাস পিছানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন। একইসাথে বন্দরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যেতে হলে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি। অপরদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান জানান, এমপি-মন্ত্রীদের জন্য আনা ৩০টি গাড়ি পানির দরে কিনতে চায় একটি চক্র। এতে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়। এজন্য এগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি কাজেই গাড়িগুলো ব্যবহার করা হবে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, শীঘ্রই ৩০টি গাড়ি সরকারকে দিয়ে দেওয়া হবে এবং এগুলো ঢাকা পরিবহন পুলে পাঠানো হবে।

শনিবার সকালে বন্দরের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি আয়োজিত কাস্টমস এন্ড পোর্ট ম্যানেজমেন্ট প্রসপেক্টস প্রবলেমস এন্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে একই অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনে করনীয় সংক্রান্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেমিনারে ব্যাবসায়ী নেতা ও বন্দর ব্যবহারকারীরা বন্দর ও অফডকের মাশুল বৃদ্ধি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ জানাতে থাকেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম. সাখাওয়াত হোসেন। সেমিনারে অংশ নেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ বন্দর কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বন্দর ব্যাবহারকারীরা।

এসময় ব্যবসায়ীরা বলেন, নতুন মাশুল পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে আদায় করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর ধরে নিলামযোগ্য কনটেইনারের স্তুপ থাকে। অথচ সেগুলো নিলাম দেওয়া হয় না। বন্দরের সক্ষমতার যথেষ্ট অভাব থাকলেও বিদেশের বন্দরের উদাহারণ টেনে মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু সেবার মান বাড়ানো হচ্ছে না। এসময় ব্যবসায়ীরা কাস্টমসের হয়রানি, এইচএস কোড নিয়ে জটিলতা ও বন্ডের কড়াকড়ি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, সরকার আমেরিকার শুল্ক নীতিকে সফলভাবে নেগোসিয়েশন করতে পারলেও বন্দর কাস্টমস কেন্দ্রীক বেশকিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাশুল বৃদ্ধির নামে প্রায় শতভাগ কস্ট অব ডুয়িং বিসনেস বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই সংকটগুলো নিরসন না করলে আমদানী রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি তথা জাতীয় অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আনতে অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের আন্তরিকতা কোন কাজে আসবে না।

এসময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এসব অভিযোগ ও দাবি শুনেন। পরে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম. সাখাওয়াত হোসেন জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ এক মাস পিছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। তবে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের না আনলে বন্দরের উন্নয়ন হবে না। বর্তমান সরকারের আমলে বন্দরের অনেকাংশে উন্নতি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে। শীঘ্রই বে-টার্মিনালের চুক্তি হবে। তখন বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

Tags :

সর্বশেষ