চট্টগ্রাম বুলেটিন

উত্তর কাটলীতে কাউন্সিলর পদে আলোচনায় বিএনপি-জামায়াতের চার নেতা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য ওয়ার্ডের মতোই শিল্প অধুষ্যিত ১০ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর কাট্টলীতে নির্বাচনের আগাম হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা এখন থেকেই জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন, ঘরে ঘরে গিয়ে দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। স্থানীয় ভোগান্তির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তারা বাসিন্দাদের সঙ্গে আস্থাভাজন হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন৷ ঈদকে ঘিরেও নানা কাজের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় যাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির তিন ও জামায়াতের এক নেতাসহ চার নেতা।

এরা হলেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিক উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি সাহেদ আকবর, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম ও জামায়াত নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। ইতিমধ্যে জামায়াতের প্রার্থীও এলাকায় নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। সেইসাথে বিএনপির তিন নেতাই কাউন্সিলর হওয়ার দৌড়ে দলীয় হাইকমান্ড, মহানগর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন৷ তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কে টিকবেন সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না সহসা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ওয়ার্ডগুলোর একটি উত্তর কাট্টলী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘেঁষা এ ওয়ার্ডের বুক চিরে প্রতিদিন চলাচল করে হাজারো যানবাহন, আসে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা। অসংখ্য পোশাক কারখানা রয়েছে এই ওয়ার্ডে। ফলে নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সবকিছু মিলিয়ে ওয়ার্ডটির গুরুত্ব অন্য অনেক এলাকার চেয়ে বেশি।

এ ওয়ার্ডেই রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম। যেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক কৈবল্যধাম মন্দির এবং শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উত্তর কাট্টলীকে চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত করেছে।
<span;>কিন্তু এত গুরুত্বের পরও উত্তর কাট্টলীর মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থানছেই না। বিশুদ্ধ পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, মশার উপদ্রব, যানজট, পাহাড়ধসের ঝুঁকি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এখানকার নিত্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. রফিক উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার উৎস একজন মুক্তিযোদ্ধা বাবা। সেই আদর্শ থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে তাঁর। তিনি মনে করেন, উত্তর কাটলীর সবচেয়ে বড় সংকট বিশুদ্ধ পানির অভাব। রফিক উদ্দিন জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ওয়াসার পানির বিকল্প পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের ওয়ার্ডে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন। কিন্তু দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এলাকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখন আমরা আবার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

কাউন্সিলর প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাহেদ আকবর বলেন, উত্তর কাট্টলীকে অসম্প্রাদায়িক ও কিশোর গ্যাং, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক শিক্ষার পরিবেশে গড়ে তোলায় আমার প্রত্যায়। এখানের মূল সমস্যা ওয়াসার পানির সংকট। নির্বাচিত হই আর না হই মানুষের  পাশে আছি কাজ করা আমার রাজনীতির অংশ । ইতিমধ্যে সিটি মেয়রের মাধ্যমে আমি ১৫ টি ছোট বড় রাস্তা ও ড্রেইন,  ১২ টি ডিপ টিউবেলের অনুমোদন করেছি। সব টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে৷ এছাড়াও বরদা বিশ্বাস রোড়ের কাজ, কুতুব বাড়ীর মিয়াজীর বাড়ীর কাজ শেষ হয়েছে। আমি সার্বিকভাবে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আল আমিন হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাহাদাত হোসেনের নামও এলাকায় আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে হজ্ব পালনে দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। আগামী নির্বাচনে জামায়াত তাকে প্রার্থী করেছে বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কাট্টলীতে প্রায় ৪১ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থানে গড়ে ওঠা এ ওয়ার্ডে সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ দীর্ঘদিনের। তবে নাগরিক সেবার ঘাটতি ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দিন দিন বাড়ছে জনদূর্ভোগ। নির্বাচনকে সামনে রেখে  এখন উত্তর কাট্টলীর অলিগলি, চায়ের দোকান কিংবা সামাজিক আড্ডা—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে এবার এমন একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, যিনি সত্যিকার অর্থেই উত্তর কাটলীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

Tags :

সর্বশেষ