চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। সৃজনশীল চর্চা ও যুক্তিবাদী চিন্তাধারার বিকাশে ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা গেছে। গতকাল শনিবার সকালে এসব প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তাফা। রচনা প্রতিযোগিতায় পরিবেশ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সমাজ নিয়ে শিক্ষার্থীরা তুলে ধরে তাদের ভাবনা; চিত্রাঙ্কনে উঠে আসে জাতীয় দিবস, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃতি ও সংস্কৃতির রঙিন প্রতিচ্ছবি; আর বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মুখর হয়ে ওঠে যুক্তির মঞ্চ। ঈদের পর দেশের নানা প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আগত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
আয়োজকরা বলেন, আমরা চাই আমাদের ছোট ভাই-বোনরা শুধু পাঠ্যবই নয়, চিন্তা, সৃজন ও বাকস্বাধীনতার চর্চাও করুক। তাদের এই বিকাশেই আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস। প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও এ ধরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী অধ্যাপক মনজুরুল আলম, ক্যাপ্টেন মোস্তাফা আনোয়ার কবির ও অল্যামনাই প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিদ্যালয়টিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও চবির পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এখলাস উদ্দিন আহমদ। তার হাতেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের এক অনন্য বিদ্যায়তনে পরিণত হয়। কালের পরিক্রমায় বিদ্যালয়টি তৈরি করেছে অসংখ্য স্বনামধন্য গ্র্যাজুয়েট; যাদের অনেকেই দেশে ও বিদেশে শিক্ষক ও গবেষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ নানা পেশায় নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।