বৈশ্বিকভাবে সাধারণত নারীরা যে সকল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তার মধ্যে জরায় মুখ ক্যান্সার চতুর্থ সর্বোচ্চ। বাংলাদেশি নারীদের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২০ সালের তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী প্রতিবছর বিশ্বের ৬ লক্ষাধিক নারী জরায়ু মুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। যার মধ্যে ৩ লক্ষ্যই মৃত্যুবরণ করেন। এর প্রায় ৯০% মৃত্যু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ঘটে থাকে। এসব দিক থেকে জরায়ু মুখ ক্যান্সারে বাংলাদেশের নারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিতে আছে। তবে গেলে বছর থেকে বাংলাদেশ সরকার জরায় মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা চালু করেছে। যা বাংলাদেশের পশুর কালীন স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন দিগন্ত। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সম্মিলিত প্রয়াস না হলে জরায় মুখ ক্যান্সার প্রতিনিধি এইচপিভি টিকা কার্যক্রম ভেস্তে যাবে। এ কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন করে তুলতে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষজনকে।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃক আয়োজন করা হয় এ সংক্রান্ত এক সেমিনারের। আর এতে বক্তারা বলেন সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ। নয়তো কিশোরীরা সরকারের এ প্রকল্পের সুফল পাবেনা। মাঠকর্মীদের শতভাগ প্রচেষ্টায় ১০-১৪ বছর বয়সী অথবা পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণী বা তার সমমানের কিশোরীদের টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য টিকা সম্পর্কে প্রচলিত কু-ধারণা দূর করতে সজাগ থাকতে হবে।
উপজেলা লেভেল ভলেন্টিয়ার ওরিয়েন্টেশন অন হিউমান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ভেকসিনেশন-২০২৪ শিরোনামে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অফিসার কে এম রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমাদের এখানে ২৫ হাজার ৪৫৮ জন কে এ টিকা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থী হিসাব করলে কিশোরী হিসেবে ৫০ শতাংশ এটি কার আওতায় আসবে। আমি যারা টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরকে আহ্বান জানাবো আপনাদের মাধ্যমে যেন জনগণের মাঝে সৃষ্টি হয়। এমনকি যেসব কিশোরী বিদ্যালয়ের বাইরে আছে তাদেরকেও কেউ যেন টিকার আওতায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় তিনি আরো বলেন যাদের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নেই তাদেরকেও বিশেষভাবে ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই বিদ্যালয় পড়ুয়া পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণী বা তার সমমানে অধ্যায়নরত অথবা বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ১০-১৪ বছর বয়সী সকল কিশোরী এ টিকার কার আওতায় আসুক। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে চেতন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার নুরুদ্দীন রাশেদ এর পরিচালনায় এটা আরব বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল কাদের, সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মজিবুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস মোস্তফা আলম সরকার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম সোবহান, যুবাইদিয়া ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল কবির।
উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডাক্তার নুরুদ্দিন রাশেদ বলেন, জরায় মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য এইচপিভি টিকা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত, নিরাপদ ও কার্যকর। এটি জরায়ু ক্যান্সার রোগের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের এক ডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া ৩০ বছরের বেশি বয়স হলেই নিয়মিত জরায়ুমুখ ক্যান্সার নিরূপণ পরীক্ষা করা ও সময়মত উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ প্রধানের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই আসুন একডোজ টিকা দিন, জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করুন।
ডাক্তার নুরুদ্দিন রাশেদ সাথে আরো বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার (সার্ভিক্যাল ক্যানসার) ভাইরাসজনিত একটি প্রাণঘাতি সংক্রামক রোগ। কিশোরী বয়সে এইচপিভি টিকা নিলে নারীদের জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। টিকা পেতে আগ্রহী সবাইকে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন করতে www.vaxepi.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এ টিকা পেতে হলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন থাকতে হবে। আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে টিকা প্রদান শুরু হবে। টিকা পেতে নির্দিষ্ট টিকা কেন্দ্রে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোরীকে নিয়ে আসতে হবে।
উল্লেখ্য গত বছর প্রথমবারের মতো জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকা চালু করা হয়। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে ১৫ লাখ ৮ হাজার কিশোরীকে টিকা প্রদান করা হয়। চলতি দ্বিতীয় ধাপে সারাদেশের ৭ বিভাগে ৬২ লাখ ১২ হাজার ৫৫৯ জন কিশোরীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুলের বাইরে থাকা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৬ জন কিশোরীকে এ টিকা দেওয়া হবে এই ধাপে। তবে এ ধাপে ঢাকা বিভাগে কার্যক্রম চলবে না।
এরপর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের হাত ধোয়া কর্মসূচীতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া শেখান ডা. নুরউদ্দিন রাশেদ।