চট্টগ্রাম বুলেটিন

জুলাইয়ে শত প্রতিকূলতায়ও আমরা থামিনি

জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকিনি। আন্দোলন দমাতে ফ্যাসিস্ট সরকার তখন বারবার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতো। মোবাইল নেটওয়ার্কেও বাধা আসত। সংবাদ সংগ্রহেও নানা প্রতিকূলতায় পড়তাম আমরা।  আমরা জানতাম এই আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্ত ইতিহাস। তাই খবর সংগ্রহ করে তা পেনড্রাইভে করে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাতাম। সেখান থেকে কোনোভাবে ঢাকার অফিসে পাঠানো হতো সেই রিপোর্ট। এটা শুধু পেশাগত দায় ছিল না, ছিল একজন নাগরিক হিসেবে গণতন্ত্র ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার৷ আমাদের লক্ষ্য ছিল পরেরদিন জাতিকে সত্য ঘটনা কাগজে জানানো৷ যেহেতু অনলাইন বন্ধ, তাই বেশিরভাগ মানুষ পত্রিকা কিনে পড়তো৷ জুলাইয়ে আমাদের সংবাদগুলো হয়তো প্রেরণা যুগিয়েছে বহু মানুষকে৷

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে কথাগুলো বলছিলেন, দৈনিক আমার দেশের স্টাফ রিপোর্টার জমির উদ্দিন। চট্টগ্রাম শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে রোববার (২৭ জুলাই) ‘সাংবাদিকদের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐক্য ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য ও প্রভাব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এক মহাসংগ্রাম। সাংবাদিকরা যদি সাহসের সঙ্গে সত্যকে তুলে ধরেন, ইতিহাস কখনও বিকৃত হবে না। আজকের প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস জানাতে সাংবাদিকদের নির্ভীক হতে হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি বলেন, সাংবাদিকদের চোখে জুলাই আন্দোলনের ব্যাখ্যা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে। সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে ঘটনাবলি তুলে ধরলে তা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্ত করবে।

আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গি যেকোনো আন্দোলনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। তারা যদি জুলাই আন্দোলনের চেতনা সঠিকভাবে তুলে ধরেন, তা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করবে। আমরা চাই সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে সত্য প্রকাশের কাজ চালিয়ে যান।

Tags :

সর্বশেষ