চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিনকে জোড়া খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল বাকলিয়া থানা পুলিশ। তবে উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি। সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আটকাদেশ থাকায় ফের হেফাজতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
রবিবার (১১ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক সিভয়েস২৪’কে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘তামান্না বাকলিয়া থানার জোড়া খুনের মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি। আমরা যখন গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করি তখন তিনি নিম্ন আদালতের আত্মসমর্পণের কাগজ দেখাতে পারেননি। দেখাতে পারলে তাকে আমরা আনতাম না।
এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি (তামান্না) গত বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু আমরা আদালতের পক্ষ হতে সেই সংক্রান্ত কাগজ গতকাল পর্যন্ত পাইনি, তিনিও দেখাতে পারেননি। আজ (রবিবার) সকালে তার আইনজীবী আত্মসমর্পণের কাগজ নিয়ে এসেছিলেন। সেখানে দেখেছি আগামী ১৫ মে আদালত শুনানির জন্য রেখেছেন।’
‘নগরের অন্য একটি থানায় (বায়েজিদ) তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩০ দিনের আটকাদেশ থাকায় তাকে সেই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’ যোগ করেন তিনি।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় তামান্না নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন দাবি করলেও এ সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
গত ১৫ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের দুই সপ্তাহের মাথায় ২৯ মার্চ দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে বাকলিয়া থানার এক্সেস রোড এলাকায় প্রাইভেটকারে দুর্বৃত্তের গুলিতে দুজন নিহত হন।
সেই জোড়া খুনের ঘটনায় ১ এপ্রিল বাকলিয়া থানায় নিহত মোহাম্মদ মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বর্তমানে কারাবন্দী ছোট সাজ্জাদ হাটহাজারীর শিকারপুরের মো. জামালের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির ১৫টি মামলা রয়েছে।