চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র দুজন শিক্ষার্থী। তবে কেউই পাস করেনি। অথচ বিদ্যালয়টিতে ৭ জন শিক্ষক রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিদ্যালয়টির নাম নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে বেশ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এবার তিন পার্বত্য জেলাসহ ১ হাজার ১৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে নারায়ণহাট বালিকা বিদ্যালয় ব্যতিক্রম। কারণ শুধুমাত্র দুজন অংশ নিয়েও কেউ পাস করেনি। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ফটিকছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, উপজেলায় ৫৯টি বিদ্যালয় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থী সংখ্যায় সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন শিক্ষার্থী নিয়ে অংশ নেয় রোসাংগিরি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যেখানে ৬ জনের মধ্যে ৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তবে কথা হয় বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শওকত হোসেন সিকদারের সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এই স্কুল ২৫ বছর ধরে এমপিও ছাড়া চলছে। এবার মাত্র দুজন পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের ফরম পূরণের টাকা পর্যন্ত আমি দিয়েছি। কেউ পাস না করাটা দুঃখজনক। তবে এখানে যারা পড়ে, তারা খুবই অসহায় পরিবার থেকে আসে।
তাঁর দাবি, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ৭ জন শিক্ষক আছেন। তিনি আরও বলেন, এটি একটি বালিকা বিদ্যালয়। আশেপাশে যারা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না, তারাই এখানে ভর্তি হয়।
তবে শিক্ষক সংখ্যা নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘কেউ পাস না করাটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি কয়েকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। কয়েকজন শিক্ষার্থী দেখলেও সেখানে তেমন শিক্ষক নেই। প্রায় ৭০ বছর বয়সী একজন প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে আছেন। দুজন পিয়ন ও কর্মচারী রয়েছেন। তবে সাতজন শিক্ষক রয়েছেন, এমন তথ্য সঠিক নয়। সম্ভবত এমপিও আবেদন করার জন্য কাগজে-কলমে সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা নেই।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি সোলাইমান আকাশ বলেন, ‘যতটুকু জানি, বিদ্যালয়টির বয়স অনেক। তবে নানা কারণে এটি এখনও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। অবকাঠামো, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার পরিবেশ, কোনোটিই ঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি। অথচ উপজেলার অনেক নন-এমপিও স্কুল ভালো ফলাফল করছে। কেউ পাস না করাটা মোটেই ভালো খবর নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা। পাশাপাশি স্থানীয় বিত্তবানদেরও এগিয়ে এসে বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখা উচিত।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। নন-এমপিও বিদ্যালয় হলেও তারা সরকারী বই পায়। শিক্ষক থাকার পরও দুজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, দুজনই ফেল করেছে। প্রয়োজনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।