চট্টগ্রাম নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা জিইসি মোড়ে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ কাজের সূচনা হতে যাচ্ছে। নগরের ব্যস্ততম ও সড়ক পারাপারের প্রধান এই মোড়টিতে এতকাল পথচারী পারাপারের নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়েই সড়ক পার হচ্ছিলেন হাজার হাজার মানুষ।
অবশেষে নগরবাসীর সেই ভোগান্তি দূর করতে এগিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জিইসি মোড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক এই ফুট ওভারব্রিজ। ইতিমধ্যে এই পদের দৃশ্যমান হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে দ্রুত এটির শুভ উদ্বোধন করবেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘদিন পর নিরাপদ পারাপারের এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে দেখে স্বস্তি প্রকাশের পাশাপাশি চসিক মেয়রকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন চট্টগ্রাম নগরবাসী।
এক নজরে ব্রিজের নকশা ও বিস্তারিত:
প্রকল্পের মোট ব্যাপ্তি: ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় পুরো নগরীতে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৩৮টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মিত হবে।
অন্যান্য এলাকা: জিইসি ছাড়াও ২ নম্বর গেট, শুলকবহর (দুই ফ্লাইওভারের মাঝখানে), পুরাতন চান্দগাঁও থানা, ইপিজেড ও কাঠগড়সহ ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
জিইসি ব্রিজের বৈশিষ্ট্য: ৩.৬ মিটার চওড়া ও সড়ক থেকে ৬.৩ মিটার উঁচু এই ব্রিজের মাঝখানে থাকবে চমৎকার রাউন্ড ডিজাইন।
উঠানামার ব্যবস্থা: পথচারীদের সুবিধার জন্য জিইসি কনভেনশন, জামান হোটেল, কামাল স্টোর ও সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে—মোড়ের চার প্রান্তেই মোট চারটি সিঁড়ি থাকবে, যার মাধ্যমে শহরের যেকোনো দিকে নিরাপদে যাতায়াত করা যাবে।
নির্মাণ সময়সীমা: চলতি ফেব্রুয়ারি থেকে গত জুন মাসের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে কাজ সম্পন্ন হতে জুলাই গড়িয়ে আগস্টে পড়ছে।
বহু প্রতীক্ষিত এই পদচারী সেতু দৃশ্যমান হওয়ায় জিইসি মোড়ের যানজট কমার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।