চট্টগ্রাম বুলেটিন

সাংবাদিক শিল্পীর বাসায় পুলিশি তাণ্ডব, বাড়িতে ঘুমিয়েও আসামি কয়েক সাংবাদিক

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও একাত্তর টেলিভিশন চট্টগ্রামের ব্যুরো সাইফুল ইসলাম শিল্পীর বাসায় তাণ্ডব চালিয়েছে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী পুলিশ সদস্যরা। তারা শিল্পীর বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা তার স্ত্রী ও সন্তানদের সাথেও অশোভন আচরণ করে। এ ঘটনা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের নূর আহম্মেদ সড়কস্থ নাসিমন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ওই ভবনের একটি ফ্লোরে সাইফুল ইসলাম শিল্পী পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

জানা গেছে, মধ্য রাতে কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল করিমের নেতৃত্বে এসআই শরীফসহ একটি টীম সাংবাদিক শিল্পীর বাসায় গিয়ে দরজায় অভদ্রভাবে কড়া নাড়ে। এসময় কেন এসেছেন এবং কি অভিযোগ জানতে চান শিল্পীর সহধর্মিণী। কিন্তুু পুলিশ সদস্যরা কোন উত্তর না দিয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা শিল্পীকে খুঁজতে থাকেন। তার স্ত্রী বারবার তিনি বাসায় নেই জানালেও পুলিশ সদস্যরা তাদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। এমনকি তারা ঘরের নারীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। পরে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় বিষয়টি প্রকাশ পেলে তারা ফিরে যায়।

সাইফুল ইসলাম শিল্পী তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে অভিযোগ করেন, মধ্য রাতে পুলিশ তার বাসায় ঘিরে রেখেছে। সমন্বয় পরিচয়ে একদল যুবক পুলিশের সাথে সেখানে অংশ নেয়। পুলিশ তার নাসিমন ভবনের বাসায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিককে মারধর করে কয়েকজন সাংবাদিক। এসময় সেখানে পুলিশ নিয়ে হাজির হন সেই সাংবাদিক। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জালাল উদ্দীন সাগর নামে এক সাংবাদিককে আটক করে। পরে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ওই সাংবাদিক কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে তাৎক্ষণিক একটি মামলা করেন। এতে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের সবাই সাংবাদিক। এর মধ্যে ৭১ টিভির ব্যুরো সাইফুল ইসলাম শিল্পীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। জালাল উদ্দীন সাগরকে ২ নম্বর ও আরিয়ান লেলিনকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় মো. নাজমুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ চৌধুরী, কামরুল হুদা, এম এ হক শামীমকেও আসামি করা হয়েছে।

আরিয়ান লেলিন চট্টগ্রাম বুলেটিনকে বলেন, আমি ওইসময় বাসায় ছিলাম। শুধু আমি নয় আরও কয়েকজন সাংবাদিক তাদের অফিসে, আজহারির মাহফিলে ও বাসায় ছিলেন। কিন্তুু তাদেরকেও আসামি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা উল্লেখ করে আরিয়ান লেলিন বলেন, কেবল সাইফুল ইসলাম শিল্পী ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে মামলার আসামি করা হলো। আর মামলায় যেই৷ অভিযোগ করা হয়েছে ইবনে মীরকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। অথচ সুস্থ অবস্থায় হেঁটে কোতোয়ালি থানায় গিয়ে মিথ্যা মামলাটা করলেন।

প্রসঙ্গত, সাইফুল ইসলাম শিল্পী সিএমইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি পাঠক নিউজের সম্পাদকও। চট্টগ্রামের সিনিয়র এই সাংবাদিক ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত হয়ে আসছে। তার ক্ষুরধার লেখনিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের কম্পন সৃষ্টি হতো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিত। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে ফ্যাসিবাদের দোসরমুক্ত আন্দোলনে তিনি প্রথম সারির একজন। তার নেতৃত্বেই ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে ফ্যাসিবাদের দোসররা বিতাড়িত হন।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটিতে ক্রীড়া সাংবাদিক না হওয়ার পরও এক সাংবাদিককে সেখানে সদস্য করায় তিনি প্রতিবাদ জানান। এর জেরেই এসবের সূত্রপাত।

Tags :

সর্বশেষ