মেয়রের ক্ষোভ:

শনিবার লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক আয়োজনের ১১৭তম আসরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের। কিন্তু একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়োজনের ধরন এবং নামকরণে অসংগতির কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। যদিও বিষয়টি স্পষ্ট করেননি চসিক মেয়র। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সচিব আশরাফুল আমিন উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই আশা করেছিলেন চসিক মেয়র বড় এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“যেখানে বড় করে ‘ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলা’ লেখা থাকার কথা, সেখানে লেখা হয়েছে ‘বাংলালিংক জব্বারের বলি খেলা’। এতে মনে হচ্ছে এটি যেন এখন বাংলালিংকের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান। স্পন্সরকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আব্দুল জব্বারের পরিবার এই দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিয়েছে।”

বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ

সচেতন চট্টগ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, মাঠের চারদিকে শুধু বাংলালিংকের লোগো আর বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি ছিল। এমনকি যখন বালুর মঞ্চে বলি খেলা জমে ওঠে, তখনো সেখানে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিটির লোকজনের অনাকাঙ্ক্ষিত আনাগোনা ছিল। ফলে দর্শকরা ঠিকমতো খেলা উপভোগ করতে পারেননি। খেলা চলাকালীন মঞ্চের ওপর তাদের এই ‘ঘুরঘুর’ করাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়।

নাম নিয়ে বিতর্ক

আয়োজন সংশ্লিষ্ট একটি মহলের মতে, বড় আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা বা স্পন্সর নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ‘ঐতিহাসিক’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘বাংলালিংক জব্বারের বলি খেলা’ নামকরণ করাকে মোটেও সমীচীন মনে করছেন না বিশিষ্টজনরা। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, অর্থের বিনিময়ে কি তবে আগামীতে মূল নামটিও হারিয়ে যাবে?

উদ্বোধক ও অতিথিবৃন্দ

মেয়র উপস্থিত না থাকলেও অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের এই লোকজ ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষায় আগামীতে আয়োজকদের আরও সচেতন হওয়ার দাবি জানিয়েছেন মেজবান ও বলি খেলা প্রেমী সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, বাণিজ্যিক সুবিধা যেন কোনোভাবেই চট্টগ্রামের শত বছরের পরিচয়কে ছাপিয়ে না যায়।