চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের এক শ্বাসরুদ্ধকর যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গুলিসহ তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান গনি ওরফে মনাকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৬ এপ্রিল (রবিবার) দুপুরে হাটহাজারী থানাধীন চিকনদন্ডী ইউনিয়নের একটি পাঁচতলা ভবনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। দুপুর আনুমানিক ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ভবনটি ঘিরে ফেলে ওসমানকে আটক করতে সক্ষম হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে অত্যাধুনিক বিদেশী পিস্তল ও দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতের তালিকা
অভিযান শেষে পুলিশ আসামির কাছ থেকে নিচের সরঞ্জামগুলো জব্দ করে:
বিদেশী পিস্তল: ১টি ৭.৬৫ বোর (ম্যাগাজিনসহ)।
শর্টগান: ৩টি একনলা শর্টগান।
গোলাবারুদ: ১১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, রাইফেলের গুলি এবং ১৭ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ।
দেশীয় অস্ত্র: বেশ কিছু চাপাতি ও সুইচ গিয়ার চাকু।
নগদ অর্থ: ৫১,০০০ (একান্ন হাজার) টাকা।
অন্যান্য: বিভিন্ন মডেলের একাধিক মোবাইল ফোন।

প্রাথমিক স্বীকারোক্তি ও মামলার তথ্য
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওসমান স্বীকার করেছে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সে বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রয় করত এবং নিজে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিত। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরও দুই সদস্য—হৃদয় (৩০) ও রাজু (৩২)-এর নাম পাওয়া গেছে, যাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
হাটহাজারী থানার পুলিশ জানায়, ওসমানের বিরুদ্ধে সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনা করে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের ১৮টি মামলার হদিস পাওয়া গেছে। বর্তমান অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে নতুন করে আরও একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল
“জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। জননিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।”