Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

চট্টগ্রামে থেকেও খাগড়াছড়ির ঘটনায় আসামি হলেন সাংবাদিক আবু বক্কর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের আজকের পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার  আবু বকর ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে আলমগীর হোসেন নামে খাগড়াছড়ির ইটভাটা মালিক। মামলায়  আবু বকর সিদ্দিকের পাশাপাশি আরও তিন সাংবাদিকসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়।
গত ১১ মার্চ আলমগীর হোসেন খাগড়াছড়ি সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১০ মার্চ সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে আবু বকর ছিদ্দিকসহ অন্য আসামিরা বাদি মালিকানাধীন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ফোর বিএম ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে  দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অথচ ১০ মার্চ পুরোদিনই আবু বকর ছিদ্দিক চট্টগ্রামে ছিলেন। ওইদিন আজকের পত্রিকা চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসেই তিনি উপস্থিত ছিলেন।
তবে আজকের পত্রিকা অফিস ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১০ মার্চ দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিটে তিনি অফিসে প্রবেশ করেন। আজকের পত্রিকা অফিসের বায়োমেট্রিক এটেনডেন্ট শিটেও এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
মামলায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক আবু বকর ছিদ্দিক ছাড়াও আসামি করা হয় আজকের পত্রিকাকার রামগড় প্রতিনিধি বেলাল হোসাইন এবং এনটিভি অনলাইনের দীঘিনালা প্রতিনিধি আক্তার হোসেনসহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, ফোর বিএম ব্রিক ফিল্ডের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে স্কেভটর দিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কাটার অভিযোগ আছে। দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে গত ২০ জানুয়ারি এই ভাটা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যায় আলমগীর। এ নিয়ে কয়েকমাস আগে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এনটিভির দিঘীনালা প্রতিনিধি আক্তার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার আসামি এনটিভির দিঘীনালা প্রতিনিধি আক্তার হোসেন জানান, প্রশাসন বন্ধ করে দেওয়ার পরও আলমগীর তার ভাটার কার্যক্রম অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকমাস আগে এ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এখন হয়রানির উদ্দেশ্যে আমাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
আজকের পত্রিকার রামগড় প্রতিনিধি বেলাল হোসাইন জানান, আমি আমার জীবনে কখনোই দীঘিনালা যাইনি।এমনকি বাদির সাথে আমার পরিচয়ও নেই। কাদের ইন্ধনে এই গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে, তা বের করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।
আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি আবু বকর ছিদ্দিক জানান, এটি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা। এসব বিষয়ে আমি কিছু্ই জানিনা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সালেহ নোমান জানান, বিষয়টি শুনেছি। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো।
এ প্রসঙ্গে আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফ ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক সবুর শুভ জানান, সাংবাদিক আবু বকর ছিদ্দিক চট্টগ্রামে থাকেন, চট্টগ্রামেই কাজ করেন। আমার জানামতে তিনি কোনোভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। অবিলম্বে তাঁর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই।
এদিকে শুক্রবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গায়েবি মামলার বিষয়ে জানতে বাদি মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রতিবেদক। এ সময় তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন  জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে শনিবার দুপুরে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে, আলমগীর মিটিংয়ে আছেন বলে অপরিচিত একজন লোক কল কেটে দেন।
জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন  বলেন, মামলায় নিরীহ কাউকে অভিযুক্ত করা হবে না। মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রাথমিক তদন্ত করার সুযোগ থাকে না। তবে ঘটনায় জড়িত নয়, এমন কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে না।
Tags :

সর্বশেষ