চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট এলাকায় রবিবার (১৪ জুন) রাতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পাসে একটি ধর্ষণকাণ্ড এবং সংসদ সদস্যের দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে আসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। রাত ১০টার দিকে জিরোপয়েন্ট এলাকাটি দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে।
ছাত্রদলের অবস্থান ও অভিযোগ: ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একটি মিছিল জিরোপয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী হল হয়ে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে অবস্থান নেয়। মূলত শিবিরের এক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই মিছিল বের করে ছাত্রদল।
মিছিল থেকে “ধর্ষকদের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও”, “লড়াই হবে একসাথে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে” এবং “ধর্ষণ করে গুমের নাটক চলবে না” — এমন সব স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, “যারা এই বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এবং ৭১-এর ন্যায় ধর্ষকের ভূমিকা পালন করছে, তাদের জায়গা এই ক্যাম্পাসে হবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা এই ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।”
পাল্টা অবস্থানে শিবির: অন্যদিকে, একই সময়ে সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম চৌধুরীর পার্লামেন্টে হিজাব নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করে ছাত্রশিবির। তারা জিরোপয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পাল্টা স্লোগান দিতে থাকে। তাদের স্লোগান ছিল, “মনিরের দুইগালে জুতা মার তালে তালে, হিজাব নিয়ে দিলে টান গদি হবে খান খান।” শিবিরের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি ও জিএস সাঈদ বিন হাবিব।
সাঈদ বিন হাবিব অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা যেভাবে ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদযাপন করত, আমরা এখন তার পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জনাব তারেক রহমান। আমরা দেখতে পাচ্ছি তিনি বিভিন্নভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছেন, কিন্তু ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।”
চবি সূত্র জানায়, দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং উত্তপ্ত বক্তব্যের কারণে ক্যাম্পাসের জিরোপয়েন্ট এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। দুই পক্ষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে বক্তৃতা শেষ করার পর কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করে। ক্যাম্পাস এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।