দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধিত ডিজেল আমদানির কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে। চলতি এপ্রিল মাসে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছেছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম জানান, এপ্রিল মাসে মোট ২৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে ৮ হাজার টন পৌঁছেছে এবং আগামীকাল আরো ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং শুরু হবে। পাম্পিং শুরু হলে ৪/৫ দিনের মধ্যে ৫ হাজার টনের পুরো চালান পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সরবরাহ ও আগমনের হালনাগাদ: আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে প্রবহমান বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ব্যবহার করে এই ডিজেল সরাসরি পদ্মা অয়েল পিএলসি-র পার্বতীপুর ডিপোতে আসছে। প্রথম চালান: গত শুক্রবার মধ্যরাতে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের একটি চালান সফলভাবে ডিপোতে গ্রহণ করা হয়েছে।
আসন্ন চালান: মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হবে, যা পরবর্তী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পার্বতীপুরে এসে পৌঁছাবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা: এপ্রিলের শেষ নাগাদ আরও ১২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (৭ হাজার ও ৫ হাজার টনের দুটি ধাপে) আমদানির মাধ্যমে মাসের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করা হবে।
ব্যয় সংকোচন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ: প্রথাগত পরিবহনের পরিবর্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আনায় একদিকে যেমন পরিবহন খরচ অনেকাংশে কমেছে, অন্যদিকে সরবরাহে এসেছে স্থিতিশীলতা। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, বর্তমানে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ চেইন অত্যন্ত সক্রিয়। ফলে সাধারণ গ্রাহক বা কৃষকদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই; কোনো ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।
সফলতার ধারাবাহিকতা: উল্লেখ্য যে, পাইপলাইনের মাধ্যমে এই আমদানি প্রক্রিয়া গত মার্চ মাস থেকেই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মার্চ মাসে তিন দফায় মোট ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে ২৫ হাজার টনে উন্নীত করা সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি পরিকল্পনারই অংশ।
ভবিষ্যতে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।