Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

শুধু কঠোর শাস্তি নয়, অপরাধ দমনে দরকার সামাজিক সচেতনতা

তানজিন ইরিন নিশান

প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার, সাইবার অপরাধ, প্রতারণা কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো নানা অপরাধের খবর। অপরাধের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে—এমন ধারণা সমাজে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, কঠোর শাস্তিই অপরাধ কমানোর একমাত্র উপায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শাস্তি অপরাধের একটি প্রতিক্রিয়া মাত্র; অপরাধ দমনের জন্য প্রয়োজন সচেতন সমাজ, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ।

অপরাধ কোনো একদিনে সৃষ্টি হয় না। পারিবারিক অবহেলা, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, সামাজিক বৈষম্য, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব একজন মানুষকে অপরাধের পথে ঠেলে দিতে পারে। তাই অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা, পরিচয় গোপন, অনলাইন হয়রানি এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনা বাড়ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

অপরাধ প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যখন পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা গড়ে ওঠে, তখন অনেক অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য প্রদান, প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করা এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সহজ হয়।

তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করাও অত্যন্ত জরুরি। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে অনেক তরুণ অপরাধের পথ থেকে দূরে থাকবে। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা ও আইনি সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, অপরাধ প্রতিরোধ কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। কঠোর আইন প্রয়োগ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তার পাশাপাশি সচেতন পরিবার, মানবিক সমাজ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলতে পারলেই একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।

লেখক: তানজিন ইরিন নিশান
শিক্ষার্থী, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স, ২০২৫-২৬ সেশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Tags :

সর্বশেষ