সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষের আতঙ্ক, ২০ মামলার আসামি ও আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সর্দার মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ‘ছেনী বাবলু’কে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার করে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার। দীর্ঘদিনের ওয়ারেন্টভুক্ত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে দমনে ওসির এমন সাহসী ও ঝটিকা অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত এগারোটায় ওসি সুজন হালদারের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ও দিকনির্দেশনায় সন্দ্বীপ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার রহমতপুর ও তাহের বাজার এলাকায় এই সফল অপারেশন পরিচালনা করে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্দ্বীপের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে যোগদানের পর থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন ওসি সুজন হালদার। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সূচনা কলোনিতে অভিযান চালায়।
সেখান থেকে প্রথমে শীর্ষ সন্ত্রাসী ছেনী বাবলু ও তার নারী সহযোগী মাদক কারবারি বুলবুলিকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ওসি সুজন হালদারের দূরদর্শী জিজ্ঞাসাবাদ ও কৌশলী তৎপরতায় আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতেই তাহের বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ডাকাত দলের লুকিয়ে রাখা ৩টি দেশীয় এলজি (আগ্নেয়াস্ত্র), ৪টি কার্তুজ, ১টি ছেনি, ১টি চাপাতি, ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১১,২২০ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ছেনী বাবলু দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও অপহরণসহ অন্তত ২০টি মামলা থাকলেও সে ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। ওসি সুজন হালদারের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও কঠোর অবস্থানের কারণে অবশেষে এই ভয়ংকর অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। ছেনী বাবলু গ্রেফতার হওয়ার খবরে সন্দ্বীপের সাধারণ ব্যবসায় ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ওসির এই সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করছেন সবাই।
এই বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, “সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই দ্বীপ উপজেলাকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসীকে সন্দ্বীপের মাটিতে ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় আগামীতেও আমাদের এই ধরনের কঠোর অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে।”
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম (বিপিএম) এই সফল অভিযানের তীব্র প্রশংসা করে জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনে সন্দ্বীপ থানা পুলিশের এই তৎপরতা প্রশংসনীয়। সন্দ্বীপকে পুরোপুরি শান্ত ও নিরাপদ রাখতে পুলিশের এই শুদ্ধি অভিযান চলমান থাকবে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।