নানা আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রথম প্রহরে নগরীর উত্তর কাট্টলীস্থ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন প্রতিমন্ত্রী, চসিক মেয়র, সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার ,জেলা প্রশাসকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। এদিন ভোরের আলো ফুটার আগেই হাতে ফুল ও হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে স্মৃতিসৌধে ছুটে আসেন নগরবাসী। পরে নগরীর বিপ্লব উদ্যানে একে একে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রাজনীতিবিদ, ছাত্র, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। সেইসাথে মুনাজাতের মাধ্যমে শহীদদের জন্য দোয়া করেন অনেকে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, বর্ণাঢ্য র্যালি, সমাবেশ, চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল নগরের বিভিন্ন স্থানে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে কাট্টলী স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এটি ছিল সরকারের পক্ষ থেকে তার শ্রদ্ধা নিবেদন। এসময় তিনি শহীদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শহীদদের স্বপ্নের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানন তিনি। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক, দেশপ্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
পরে ক্রমান্বয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ এবং রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। এরপর বেলা আটটায় নগরের জেলা স্টেডিয়ামে পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে নগরের দুই নম্বর গেটস্থ বিপ্লব উদ্যানে বেলা বাড়তেই ভিড় করে রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। এসময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় নগরীর ৪১ ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে নেতৃবৃন্দের সাথে শ্রদ্ধা জানান।
সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, “সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আমরা গড়ে তুলতে চাই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনের বড় একটি অংশ এই চট্টগ্রামে। তিনি এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। এরপর এখানেই তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে। আমরা সরকারের কাছে দাবি প্রত্যাশা করব জিয়াউর রহমানের সব স্মৃতি যেন যথাযথ সংরক্ষণ করা হয়। বিশেষ করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, রাঙ্গুনিয়ার কবর, তার শাহাদাতের স্থান পুরোনো সার্কিট হাউজ যা এখন জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংরক্ষণ করতে হবে। রাঙ্গুনিয়ার কবরকে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ একটি জিয়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এবার মহানগর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসে আমরা আলোচনা সভা, সমাবেশ, পুস্পস্তবক অর্পণ, দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মুনাজাতে দোয়া কর্মসূচী পালন করেছি।
এদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, শিল্পকলা ইন্সটিউটে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, আলোচনা সভা, প্রীতি ফুটবর ম্যাচ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ডিপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের উদ্যোগে হালিশহরে অর্ধ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও স্বাধীনতার পরেও অপূর্ণ স্বপ্নের গল্প লিখতে বিশেষ ডায়েরী উপহার দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবও শিশু কিশোরদের নিয়ে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমীনের সঞ্চালনায় বিভিন্ন থানা ভিত্তিক র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। একইসাথে ইসলামী ছাত্রশিবিরও নগরের লালখান বাজার থেকে জামালখান পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র্যালী ও সমাবেশ করে। এতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজীর হোসেন জুয়েল, চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি মোমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, মহানগর দক্ষিণ সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলামসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।