চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামে
স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকির অপরাধে ফরহাদুল ইসলাম কায়েস (১৯) নামে যুবককে প্রকাশ্যে কান ধরিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ায় তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত কায়েস ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতা কাউছারের ভাই।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পৌরসভার দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামের মহিলা মাদ্রাসা সড়কে আবুল কাশেমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা মহিলা মাদ্রাসা সড়কের আবুল কাশেমের বাড়িতে এসে ফরহাদুল ইসলাম কায়েসকে খোঁজতে থাকে। এসময় সে ভয়ে বাড়ির গ্রিল, জানালা বন্ধ করে দেয়। কিন্তুু উত্তেজিত জনতা তাদেরকে বাড়ির দরজা খুলতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে তার মা ও চাচা এসে অনুনয়-বিনয় করতে থাকলে কিছুটা শান্ত হয় জনতা।
জনতার অভিযোগ, কয়েকদিন আগে ফরহাদুল ইসলাম কায়েস একটি মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি দেয়। বিষয়টি ওই মেয়ে তার পরিবারকে জানালে তারা কায়েসের বাড়িতে আসে। শুরুর দিকে অভিযোগ অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে জনরোষে পড়ে ক্ষমা চায় কায়েস। এমনকি কান ধরে ক্ষমা চেয়ে ঘরের কোণে লুকিয়ে যান। পরে তাকে সতর্ক করে স্থানীয় জনতা।
অভিযুক্ত ফরহাদুল ইসলাম কায়েস ওই এলাকায় আবুল কাশেম ও জান্নাতুল ফেরদৌসের ছেলে। তার ভাই কাউছার ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। পদ-পদবী না থাকলেও নিজেকে নেতা দাবি করতেন। সাম্প্রতিক সময়ে কোটা আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের তিরস্কার করতেন কাউছার। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কাউছারের অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক স্ট্যাটাস নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যদিও প্রবাসে থাকায় বেঁচে গেছেন বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
সামাজিক মর্যাদা হানির কথা ভেবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেয়ের এক আত্মীয় বলেন, এরা দুই ভাই হচ্ছে এলাকার কুখ্যাত লম্পট। আগে কাউছার মহিলা মাদ্রাসার মেয়েদের ইভটিজিং করতো। মদ, গাজা, ইয়াবা সেবন করতো। আর চাঁদাবাজি করতো। এখন সে বিদেশে চলে গেলেও তার আরেক লম্পট ভাইকে রেখে গেছে। আমরা কোন ছাড় দিব না। আর কোনদিন কোন মেয়েকে বিরক্ত করতে শুনলে জনতাই গণধোলাই দিবে ওদেরকে।