চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপন্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ২১ পদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক আইনজীবীদের বাইরে কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ না করায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এর আগে মনোনয়ন ফরম কিনতে আওয়ামী ও বাম ঘরানার আইনজীবীরা বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র কেনার শেষ দিনে ২১ পদের বিপরীতে মনোনয়ন কিনেছেন ২১ জন। তারা প্রত্যেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল ঐক্য পরিষদের আইনজীবী।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই শেষে ওই ২১ জনকে ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নেই বলে জানা গেছে। ফলে আগামী ১৬ এপ্রিল সমিতির নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না প্রার্থীদের। সবকটি পদেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মূখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা তারিক আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সম্পাদকীয় এবং সদস্য পদসহ ২১ পদের বিপরীতে যাচাই-বাছাই শেষে ২১ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে আগামীকাল তাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
সবশেষ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি। সেসময় সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ পদে জয় পেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ঐক্য পরিষদ। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সহ-সভাপতিসহ ৭ পদে জয় পায় তখন। স্বতন্ত্র পেয়েছিল ১টি পদ। তবে এবার আওয়ামী এবং বাম ঘরানার কেউই মনোনয়ন ফরম কিনেননি।
এর গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণার পরও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ভোটের মাত্র ৬ দিন আগে ৪ ফেব্রুয়ারি সেই সময়ের নির্বাচন কমিশনের ৫ সদস্যই পদত্যাগ করেছিলেন। পদত্যাগপত্রে বিভিন্নভাবে ‘হেনস্তা, ভয়ভীতি, হুমকির সম্মুখীন ও আইনজীবীদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট তথা ভাতৃত্ব হারানোর আশঙ্কা করা হয়।
এরপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সমিতির সাধারণ সভায় ৫ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হলে পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি অ্যাডহক কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিধান অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।