নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় মসজিদের নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাসরত ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এদের বিরুদ্ধে একাধিকবার উচ্ছেদের জন্য হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার (১৪ মে) বেলা দেড়টার দিকে হালিশহর এলাকার বসুন্ধরা আবাসিকের ৭ নম্বর মেয়র রোডে অবস্থিত ‘ভিষণ ইউনিটি টাওয়ার’ নামে একটি বহুতল ভবনে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৫ মে) হালিশহর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০-৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন ফ্ল্যাট মালিক জয়াশীষ বড়ুয়া।
অভিযুক্তরা হলেন— দিদারুল আলম, হানিফ আলম, বাহার উদ্দিন, আশরাফ, সেলিম ফারুকী ও আলম।
মামলার বাদী জয়াশীষ বড়ুয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা মসজিদের জায়গা দাবি করে ‘ভিষণ ইউনিটি টাওয়ারে‘থাকা তার ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গত বুধবার দুপুরে ২০-৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল লাঠি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাটে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। বাদি আরো জানান, আগেও তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে চাঁদা বাজির মামলা রয়েছে।
ওই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাসরত ত্রিদিব বড়ুয়া জানান, গতকাল বুধবার দুপুরে একদল সন্ত্রাসী এসে আচমকা আমাদের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে ভবনের ফ্ল্যাটে থাকা নারী-শিশুরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় তারা ভবনের সিসি ক্যামেরা ও স্টোর রুমে রাখা মালামাল নিয়ে যায়। বর্তমানে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। ত্রিদিব বড়ুয়া আরো জানান, গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী এসব চাঁদাবাজ থেকে রক্ষা পেতে সিএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু হোক বা যে-ই হোক, আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত দিদারুল আলম বলেন, আমরা মসজিদের জায়গা উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম। জোর করে উদ্ধার করা যায় কিনা জানতে তিনি বলেন,সিডিয়ে কাজ বন্ধ করছেনা বিধায় আমরা নিজেরা কাজ বন্ধ করতেছি।