নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব:) বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে কেউ প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে। সেইসাথে প্রশাসনকে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, দৃঢতার সাথে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাইজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সাথে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত পৃথক দুই মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিনসহ বিভাগের সব জেলা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও আচরণবিধি প্রতিপালনে যা যা করণীয় আমরা সেটা করব। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আচরণবিধি মানার যে সতর্কতা ও কম আন্তকোন্দল দেখতে পাচ্ছি সেটি একটি ভালো লক্ষণ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠি অপতথ্য ও গুজব ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কা করে তিনি বলেন, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো অপরাধ। এটি রোধে সাংবাদিকরাসহ সবাইকে কাজ করতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। সব বাহিনী ও উইংগুলোর প্রস্তুতিও ভালো। আগামী নির্বাচন নিয়ে কোন শঙ্কা নেই। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে উন্মুখ হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে আমাদেরকে জানাতে হবে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। চট্টগ্রামের রাউজানে বারবার হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এগুলো শুধু রাজনৈতিক হত্যকাণ্ড নয়, সেখানে আরও অনেক কিছু জড়িত রয়েছে।
এর আগে মতবিনিময় সভায় তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইসি তিনটি কন্ডিশনকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে এক হচ্ছে স্বচ্ছতা। কোন বিষয়ে ধোঁয়াশা থাকবে না। যা করা হবে পরিস্কার ও সরাসরি। অপারেশনের পর মিডিয়া করে দিতে হবে৷ কেউ যেন অপরাধ করতে উৎসাহিত না হয়৷ যা করবেন আইনগতভাবে করবেন৷ ভুল হলে শঙ্কিত হবেন না। কাজ করলে ভুল হবে এবং তা স্বীকার করে নিতে হবে।
দুই হচ্ছে নিরপেক্ষ থাকা। নির্বাচন কমিশন আপনাদেরকে কোন দল বা গোষ্ঠির পক্ষে কাজ করতে বলবে না। যদি কেউ আমাদের বরাত দিয়ে বলে সে অবশ্যই, ভুয়া, তাকে আইনের আওতায় আনুন। ভোটের মাঠে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না৷ তিন হলো, দৃঢ়তা। অর্থাৎ মাথা উঁচু করে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে৷ দায়িত্ব এড়িয়ে কাজ করবেন না৷
তিনি বলেন, ৮৫ শতাংশ লুট হওয়া অস্ত্র ও ৭০ শতাংশ ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান ছলছে। ১৫ জানুয়ারি থেকে সেটি আরও জোরালো হবে। এছাড়াও মঙ্গলবার থেকেই অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ আরও জোরালো করা হয়েছে।
নির্বাচনে তিনটি সেল কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইলেকশনাল এডজুটেন্ট এন্ড ইলেকট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবে মাঠে। এছাড়াও ফাংশনাল ও গুরুত্বপূর্ণ সেল হিসেবে ভিজুলেন্স এন্ড অবজারভেশন কমিটি কাজ করবে। তারা অনেকটা চোখ-কান হিসেবে কাজ করবে৷ সব ধরণের ভায়োলেন্স সম্পর্কে রিপোর্ট করবেন তারা৷ আর নির্বাচনি মনিটরিং কমিটি ২১ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করবে।
কর্মকর্তাদের কাজের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক এলাকার আইনশৃঙ্খলা কমিটিগুলো কমান্ড, কন্ট্রোল, কো-অর্ডিনেশনের সমন্বয়ে কাজ করবে। যৌথ বাহিনীর অপারেশন চলবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করতে হবে। যেন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা যায়। এজন্য প্রচুর চেকপোস্ট ও মোবাইল কোর্ট বসানো যাবে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যেন নাশকতা করার চেষ্টা করতে না পারে, করলেও যেন কোথাও পালাতে না পারে। এক এলাকার সন্ত্রাসী আরেক এলাকায় এসে যেন নিরাপদ বোধ করতে না পারে৷
তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের বাস্তবতা, রোহিঙ্গা ইস্যু, ধর্র্মীয় ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে নাশকতা করার চেষ্টা হতে পারে। দুস্কৃতিকারীরা খুব সহজে রোহিঙ্গাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আনসার ও ভিডিপি বাহিনী ও গ্রাম পুলিশ, চৌকিদারকে পূর্ণাঙ্গ কাজে লাগাতে হবে। তথ্য প্রবাহ থামানো যাবে না৷ বিভিন্ন বাহিনী থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যে অপারেশন চালু করতে হবে৷ আমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করব। নির্বাচনী পরিবেশ সৌহার্দপূর্ণ রাখা, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য। নির্বাচন একটি মেলা বা বিয়ের উৎসবের মতো। সেটিতে যেন আগুন না লাগে।