চট্টগ্রাম বুলেটিন

জলাবদ্ধতা প্রকল্প নিয়ে নগরবাসীকে সুখবর দিলেন চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে চলমান প্রকল্পের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নির্মাণাধীন ২১টি স্লুইস গেটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৪টির কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর খনন ও সংস্কার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রবিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ২১টি রেগুলেটর বা স্লুইস গেটের মধ্যে ১৭টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি চারটি গেটের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। এসব স্লুইস গেট বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালের পলি অপসারণ, খনন এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তদারকিতে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি সভায় তুলে ধরা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে উঠেছে, তার সুফল নগরবাসী অচিরেই পাবে। তিনি বলেন, “২১টি স্লুইস গেটের মধ্যে ১৭টি প্রস্তুত হওয়া আমাদের জন্য একটি বড় মাইলফলক।”

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। ড্রেন ও খালে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেললে জলাবদ্ধতা দূর করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, অধিকাংশ স্লুইস গেট প্রস্তুত এবং খাল সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে থাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার প্রকোপ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এ বিষয়ে কাজের শেষ ধাপের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত সমন্বয় সভা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন চসিক মেয়র।

Tags :

সর্বশেষ