বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামালখানস্থ একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম।
ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি খুররাম মুরাদ ও দক্ষিণের সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর উত্তরের সভাপতি মুমিনুল হক। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রজনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পায়। এর ধারাবাহিকতায় ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি, বর্তমান সরকার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেননি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান সংবিধানের সংস্কার। আজ থেকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি বর্তমান সরকার খুব দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল করিম কচি বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি। গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে জুলুমতন্ত্র কায়েম করেছিল। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রশিবির সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে বিভিন্নভাবে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতের জুলুম-নির্যাতনের কথা ভুলে গেলে চলবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখে দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুমিনুল হক বলেন, পবিত্র রমজান আমাদের সত্যবাদিতা, নৈতিকতা ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। আমরা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই—আপনারা সত্য প্রকাশ করুন এবং ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিন।
তিনি বলেন, আপনারা আমাদের ভালো কাজগুলোর পাশাপাশি ভুলত্রুটিগুলোও তুলে ধরবেন। আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা আমাদের আরও পরিশুদ্ধ ও গুছিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অতীতেও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম এবং আগামীতেও থাকব। নতুন বাংলাদেশের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা জাতির বিবেক সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই—আপনারা সব ধরনের বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন এবং সত্য প্রকাশ করুন। আপনারা যদি এভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে এ দেশে আর ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মাইমুনুল ইসলাম মামুন বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং এই পেশার মানুষ জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত। আমাদের সাংবাদিকেরা অনেক কষ্ট করে সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তবে দুঃখজনকভাবে কিছু ক্ষেত্রে দলীয় বা আদর্শিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশের ঘটনাও দেখা যায়। আমরা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই—কোনো দলের আনুগত্য বা দালালি না করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করুন।
শহীদ ওসমান হাদির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ইনসাফ কায়েম করুন।” আগামীর বাংলাদেশ হবে সত্য, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম, ৭১ টিভির ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পি, সময় টিভির সিনিয়র রিপোর্টার শফিকুর রহমান এবং দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান নুরুল আলম মিন্টু।
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের বায়তুলমাল সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয়, মহানগর উত্তরের অর্থ সম্পাদক গোলাম আযম, অফিস সম্পাদক আরফাত হোসেন এবং প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক রাকিব হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।