চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ গত ১৭ বছরের শিক্ষা জীবন কিভাবে রাজনৈতিক জীবনকে প্রভাবিত করেছে তার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি নিজেকে মেধাবী নয়, টেনেটুনে পাশ ছাত্র হিসেবে দাবি করলেও তার লেখায় ওঠে এসেছে এক অসামান্য ত্যাগ, বর্ণনীত নির্যাতন ও জুলুমের গল্প। একইসাথে স্বার্থপর, স্বৈরাচারী মনোভাব পোষণ করা দেশ বিরোধী তরুণদের হীনমন্যতাও ফুটে ওঠেছে। যারা প্রতিবাদ নয় বিদেশে ভাগ্য গড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। নিচে পাঠকের উদ্দেশ্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো…
আমরা মানে ব্যক্তিগতভাবে আমি মেধাবী না! যখন কেউ বলেন সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা, আমি লজ্জায় মুচকি হাসি! আমরা টাইন্নাটুইন্না পাশ মারা ছাত্র!
আমাদের ঝুড়িঁতৈ ডাক্তার ইন্জিনিয়ার বা ডক্টর অব ফেলসোপি নাই!
আমরা আসলে বোকার রাজ্যে বাস করেছিলাম! বাস করেছিলাম আবেগ আর দেশপ্রেমের এক নেশার রাজ্যে!
কারণ, শত মামলা হামলা রিমান্ড কারাগার দেখেও, দেশ ছাড়ি নাই! দেশেই থেকেই! জীবনডা হাতের মুঠোই নিয়া, হাসিনা বিরোধী আন্দোলন করেছি!
আমরা বই পড়ি নাই, আমরা গবেষনা করি নাই! আমরা লেখালেখি করি না! আমাদের কি আফসোস হয়??
মেধাবীরা যখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, আমরা তখন হাসিনার কারাগারে বন্দী!
আমাদের কি সুযোগ ছিল না?
আমরা মেধাবী না! আমরা কামলা দিছি, তপ্ত রাজপথে! আমরা কামলা দিছি মিছিলে, আমাদের গলা ভেঙ্গেছে স্বৈরচারের বিরোদ্ধে শ্লোগান দিয়ে!
আমরা মেধাবী না, আমরা টাইন্নাটুইন্না পাশ করা ছাত্র!
আমরা সক্রেটিস প্লেটো এরিস্টটল পড়ি নাই! আমরা কার্ল মার্কস, স্পেনসার, এঙ্গেলস, লেলিন স্টালিন মাও কে চিনি না!
আমরা দেরিদা, ফুকো, আন্তোনিও গ্রামসি বুঝি না!
আমরা এডওয়ার্ড সাইদের ওরিএন্টালইজম ধইরাও দেখি না!
ম্যাকিয়াভ্যালি প্রিন্স আমরা পড়ি নাই!
আমরা টাইন্নাটুইন্না পাশ করছি আর জীবনের পথ বন্ধ ছিলো তাই আইছিলাম রাজনীতি করতে!