চট্টগ্রাম বুলেটিন

আজ জমেছে বৈশাখী মেলা, কাল ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭ তম আসর

ঐতিহ্য ও উৎসবের আমেজে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জমে উঠেছে ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলীখেলার স্মৃতিতে বৈশাখী মেলা। আগামী শনিবার লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১শ’ ১৭তম আসরের সেই বহুপ্রতীক্ষিত বলীখেলা। তবে মূল আয়োজনের আগেই পুরো লালদীঘি এলাকা, কে সি দে রোড ও কোর্ট হিল সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা এখন হাজারো পণ্যের এক বিশাল উন্মুক্ত বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পীরা তাদের পণ্য নিয়ে মেলায় হাজির হয়েছেন। ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে শৌখিন আসবাবপত্রের এক বিশাল সমাহার এই মেলা।

পণ্যের বৈচিত্র্য ও কেনাকাটার ধুম মেলার ২-৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেনাকাটার ধুম লেগেছে চারদিকে। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে হস্তশিল্পের শীতল পাটি, বাহারি হাতপাখা, ঝাড়ু ও মাটির তৈরি গৃহসজ্জার সামগ্রী। এছাড়াও রান্নাঘর ও গৃহস্থালি: দা-বটি, লোহার সরঞ্জাম, ফুলের টব এবং বেতের আসবাবপত্র। পাশপাশি শিশুদের বিনোদনের মাটির ও প্লাস্টিকের নানা রকম খেলনা এবং বাহারি লোকজ খাবার মিলছে।

মেলা সংক্ষেপিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ চলমান এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবার মেলার সময়সীমা কমিয়ে ২ দিন (শুক্রবার ও শনিবার) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নরসিংদী থেকে আসা বেত ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক ও ঢাকার মৃৎশিল্পী স্বপন কুমার পাল জানান, তারা কয়েক লক্ষ টাকার পণ্য নিয়ে আসলেও সময় কম হওয়ায় বিনিয়োগ করা টাকা তুলে আনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তবে আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব শওকত আনোয়ার বাদল ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, পরীক্ষার কেন্দ্র কাছাকাছি হওয়ায় সময়সীমা কমানো হলেও বৃহস্পতিবার থেকেই বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখে তিনি আশা করছেন, ব্যবসায়ীরা দুই দিনেই ভালো লাভ করতে পারবেন।

দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া মেলায় ঘুরতে আসা চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব প্রফেসর আব্দুল আলীম মেলার উৎসবমুখর পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, কোভিডের সময় বাদে তিনি প্রতিবারই এই মেলায় আসেন। এবারও তীব্র রোদ উপেক্ষা করে মানুষের কেনাকাটার যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, তাতে বোঝা যায় মেলাটি চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর। তবে মেলার ব্যানারে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের নাম অতিরিক্ত বড় দেখানোর বিষয়ে তিনি কিছুটা সমালোচনা করেন। তার মতে, ‘জব্বারের বলীখেলা’ নামটি আমাদের আবেগের সাথে জড়িত, যা সবসময় স্বতন্ত্র থাকা প্রয়োজন।

ঐতিহ্যের ইতিহাস ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের সাহসী ও শক্তিশালী করতে এই বলীখেলার সূচনা করেন। শতবর্ষী এই লোকজ উৎসব আজও চট্টগ্রামের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকে আছে।

Tags :

সর্বশেষ