খাজা-মফিজ জুটি ছাড়া হয়না জব্বারের বলীখেলা
বলীর লড়াই মানেই কেবল শক্তির আস্ফালন নয়, বরং সংস্কৃতিরপ্রতি গভীর টান—সেটিই আবারও প্রমাণ করলেন চট্টগ্রামের নগরের পতেঙ্গার বাসিন্দা খাজা আহম্মদ এবং হাটহাজারীর মফিজুর রহমান। বয়সের ভারে ন্যুজ্ব হয়েও বার্ধক্য আর রোগশোক তাদেরকে হারাতে পারেনি। একজনের বয়স ৭৫ বছর, অন্যজনের ৭৩। তবুও তারা কুস্তি খেলে চলছেন বছরের পর বছর। এবারও লালদিঘীর মাঠে হাজারো দর্শককে মাতিয়ে আব্দুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭ তম আসরে অবর্তীণ হন এই পুরোনো জুটি। টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে জয়-পরাজয় নয় বন্ধুত্ব আর আনন্দ দিতে পারাই যেন তাদের মুখ্য।
শনিবার বিকেলে নগরীর লালদিঘী মাঠে ১১৭তম জব্বারের বলীখেলায় যখন এই দুই বয়োবৃদ্ধ কুস্তিগির মাঠে নামেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালিতে ফেটে পড়েন। দীর্ঘ ৫৯ বছর ধরে তারা নিয়মিত এই আসরে অংশগ্রহণ করে আসছেন। প্রতিবার একে অপরকে মোকাবিলা করে আসছেন তারা। তাদের শারীরিক কসরত ও খেলার প্রতি ভালোবাসা দেখে বৈশাখী মেলা ও বলীখেলা কমিটির পক্ষ থেকে তাদের যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দর্শকদের মতে, এই দুই প্রবীণ বলী ছাড়া যেন চট্টগ্রামের বলীখেলা পূর্ণতা পায় না।
জানা যায়, মফিজুর রহমানের বয়স বর্তমানে ৭৩ বছর। তিনি হাটহাজারীর বাসিন্দা। পেশায় একজন কৃষক। প্রতিবার তিনি বলীখেলায় অংশ নেন। স্বাধীনতার ৪ বছর আগে থেকে তিনি এই খেলার একজন নিয়মিত খেলোয়াড়। সেই হিসেবে ৫৯ বছর ধরে তিনি বলীখেলায় অংশ নিচ্ছেন। যা জব্বারের বলীখেলা প্রচলনের ১১৭ বছরের অর্ধেকের বেশি। মফিজুর রহমান জানান, ১৯৮০ সালের পরে তিনি ৩ বার বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। প্রতিবার তিনি খেলেন। এটাই বলীখেলার সৌন্দর্য। তাদেরকে ছাড়া বলীখেলা হয়না।
পতেঙ্গার খাজা আহম্মদ বলী জানান, তিনি নয় শুধু তার ছেলে সন্তানরাও বর্তমানে বলীখেলায় অংশ নেন। এবারও তার সঙ্গে ছেলে সেলিম বলী অংশ নিয়েছেন। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে টানা ৫৫ বছর বলীখেলায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি ৯১ সালের পর বহুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এখন নতুন বলীদের খেলা দেখছেন দর্শকরা। আগে তারা মঞ্চ কাঁপাতেন। পুরোনো দিনে তাদের অনেক কদর ছিলো। তার শোয়ার ঘরে বহু ক্রেষ্ট রয়েছে যেগুলো তিনি বলী খেলেই জয়ী হয়েছেন। তিনি আমরা দুজনই একটা জুটি। বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ আসলে আমরা জব্বারের বলীখেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে পড়ি।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বাঙালি যুব সমাজকে শারীরিকভাবে সক্ষম করতে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াকু মনোভাব গড়ে তুলতেই আব্দুল জব্বার সওদাগর এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই লড়াইয়ের চেতনা আজও ধরে রেখেছেন খাজা আহম্মদ ও মফিজুর রহমানের মতো ব্যক্তিরা। এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১০৮ জন বলী অংশ নেন।
এতে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হন কুমিল্লার বাঘা শরীফ ও রানার্স আপ হয়েছেন একই জেলার রাশেদ বলী।