Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

চট্টগ্রামে প্রকট হচ্ছে গ্যাস সংকট, সরবরাহ কমেছে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট

দেশে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রূপান্তরের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে কাজ করে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান দুটি টার্মিনাল। এগুলোর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি পরিচালনা করে সামিট এলএনজি টার্মিনাল। দেশের অন্যান্য জেলার মতো চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ এই দুটি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল। তবে সম্প্রতি মহেশখালীর একটি এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালে শর্ট সার্কিটে আগুন দূর্ঘটনার পর থেকে সেটি সাময়িক বন্ধ আছে। আর এর প্রভাবে সারাদেশের মতো বন্দরনগরীতেও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

সরবরাহ কমে আসায় বাসাবাড়ির রান্না যেমন বন্ধ রয়েছে তেমনি  সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সংকট প্রকট হয়ে ওঠেছে। এতে গণপরিবহনের যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। পরিবহন চালকদেরও গ্যাস ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেককে গ্যাস ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় শিল্প কারখানাগুলো থেকে শুরু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন কমে গেছে। এতে সারাদেশে লোডশিডিং বেড়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)-এর ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশনের  বিতরণ উত্তরের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান জানান, টার্মিনাল থেকে আগের তুলনায় দৈনিক ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম। আগে প্রতিদিন ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট (২৪ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট) গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে। কোনো কোনো দিন সরবরাহ আরও কমে ২২২ থেকে ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, দৈনিক ২৫০ থেকে ২৫৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতো।

তারা জানান, গত বুধবার থেকে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে রোববার থেকে আরও প্রকট হয়েছে সংকট। দ্রুত টার্মিনাল মেরামত করা না হলে সংকট আরও বাড়বে বলে জানা গেছে। তবে সংস্থাটির কোন কর্মকর্তা ঠিক কতো দিনে এই সংকট কাটতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি।

যদিও পেট্রোবাংলা এক বিবৃতিতে দু:খপ্রকাশ করে জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চার দিন ধরে অচল থাকায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এফএসআরইউতে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি মেরামতে দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে মেরামত শেষে কবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি সংস্থাটি। পেট্রোবাংলা সাময়িক এ দুর্ভোগের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব মেরামতের কাজ শেষ করে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। এই কাজ শেষ হতে আরও ৪-৫ দিন লাগতে পারে বলে জানান কর্মকর্তারা।

এদিকে কেজিডিসিএল থেকে শিল্প, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কমানো হয়েছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলা জ্বলছে না, শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। গত পাচঁ দিন ধরে এই অচলাবস্থা বিরাজ করছে চট্টগ্রামে। বিশেষ করে নগরীর বায়েজিদ, খুলশী, ডবলমুরিং, নাসিরাবাদ, বন্দর এলাকা, কোতোয়ালি, হালিশহর, আকবরশাহ এলাকার বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানকার বাসিন্দারা জানান, গত চার দিন ধরে কয়েক নিয়মিত গ্যাস থকছে না। বিশেষ করে রান্নার সময় দুপুর ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও গ্যাস থাকলেও চাপ খুবই কম। এতে রান্নার কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

হালিশহরের বাসিন্দা কুলসুম বিবি বলেন, আমার বাসায় গ্যাসের চুলায় বুধবার থেকে নিয়মিত থাকছে না গ্যাস। এতে আমরা ভিন্ন সময়ে রান্না করতে হচ্ছে। লোডশিডিংও বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েকগুণ।

একইসাথে নগরীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অধিকাংশ স্টেশনে গ্যাস পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও গ্যাস না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকে। সিএনজি অটোরিকশা চালক মহিউদ্দিন হাসান বলেন, রোববার সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত না খেয়ে লাইনে দাঁড়ালেও গ্যাস পাইনি। শেষমেষ গ্যাস না নিয়েই গাড়িটি হাতে ঠেলে গ্যারেজে নিয়ে গেছি।

গ্যাস স্টেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসে চাপ খুব কম। এজন্য আমরা না বললেও চালকরা লাইনে দাঁড়াচ্ছে। তবে চাপ কম থাকায় আমরা গ্যাস দিচ্ছি না। এভাবে কতোদিন যাবে বলা যায় না।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, মহেশখালীতে এফএসআরইউটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এতে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) রয়েছে। এ দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রায় ৯৭০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ করা হয়, যা দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৭ শতাংশ।

Tags :

সর্বশেষ