মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের আজ (বুধবার) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে দেশের তৈরি একটি বিশেষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজনভ্যানে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন এ ভ্যানটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও এর ইঞ্জিন ও চেসিস এসেছে জাপানের বিখ্যাত ইসুজু ব্র্যান্ড থেকে।
প্রিজনভ্যানে রয়েছে তিনটি পৃথক কেবিন, প্রতিটিতে ১২ জন আসামি স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন। প্রয়োজনে প্রতিটি কেবিনে ১৫–১৬ জন পর্যন্ত রাখা সম্ভব। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি কেবিন আলাদাভাবে তালাবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো ভ্যানজুড়ে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি। ড্রাইভিং কেবিনে চালকসহ চারজন পুলিশ সদস্যের জন্য আরামদায়ক আসন রয়েছে, যেখান থেকে তারা মনিটরের মাধ্যমে ভ্যানের ভেতরের সব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এছাড়া আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা কেবিনের ভেতরের আসামিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও রাখতে পারবেন।
ভ্যানটির কাঠামো ও সংযোজন কাজ সম্পন্ন হয়েছে দেশীয় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানি করা হলেও নকশা, প্রযুক্তি ও সংযোজনের কাজ সম্পূর্ণভাবে দেশীয় পর্যায়েই সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে এমন ভ্যানে সেনা কর্মকর্তাদের আদালতে আনায় দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতল মহল বলছে, এতো বড় আসামিদের এভাবে বিলাসী প্রিজনভ্যানে আনতে হবে কেন। তাহলে সব আসামি এভাবে আসার অধিকার রাখে।