চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী ঘাট এলাকায় জেলে পল্লীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করেছে। প্রায় ৪ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে জেলেদের বসতঘরসহ অন্তত অর্ধ শতাধিক স্থাপনা পুড়ে গেছে।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত বারোটার দিকে আউটার রিং রোড সংলগ্ন আকমল আলী ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আউটার রিং রোডের আকমল আলী প্রান্তে সাগরে মাছ ধরার জাল সংরক্ষণের কয়েকটি টিনের ঘর রয়েছে। গতকাল মধ্য রাতে সেখানের জেলেরা মাছ শিকার থেকে ফিরে এসে জাল শুকিয়ে রাখেন। রাতে ওই ঘরগুলোতে হঠাৎ আগুন লেগে তা ছড়িয়ে পড়ে অন্য ঘরগুলোতেও।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সেখানে বেশ কয়েকটি তেলের দোকান রয়েছে। একটি তেলের দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। এতে অন্তত অর্ধ শতাধিক স্থাপনা পুড়ে গেছে। উপার্জনের একমাত্র সম্বল চোখের সামনে পুড়ে ছাই হলেও কারোর পক্ষে কিছুই করার ছিল না। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অনেক স্বপ্ন চোখের সামনে ছাই হলো। তারা জানান, সারা রাত স্থানীয়রা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। আগুনের উত্তাপ ছিল ভয়াবহ।
স্থানীয় সুলাইমান জানান, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান তারা। একইসাথে জেলেদেট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
সুজন নাম আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অন্তত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলে পল্লীর আগুনের। তারা এখন কিভাবে সমুদ্রে মাছ শিকারে যাবে। খোলা আকাশের নিচে অনেকগুলো পরিবার। আয় রোজগার নিয়ে তারা৷ বেশি চিন্তিত।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন অপারেটর আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাত ১২টা ১০ মিনিটে আমরা আগুন লাগার খবর পাই। সিইপিজেড এবং কেইপিজেড ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব। আগুনের মাত্রা অনেক ভয়াবহ বলেও জানা যায় তার কাছ থেকে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।