দ্বিতীয় দফায় সর্বাত্মক অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। রোববার থেকেও জেটি, ডিপো এমনকি বহি:নোঙ্গোরেও কাজে যোগ দেয়নি শ্রমিক কর্মচারীরা। আন্দোলন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তাদের নাম পরিচয় এখনো জানানো হয়নি।
সুত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওর্য়াল্ডকে’ ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে চলছে শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ডাকে ছয়দিন কর্মবিরতি পালনের পর দুইদিন বিরতি দিয়ে আজ রবিবার সকাল ৮টা থেকে ফের অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে শ্রমিক কর্মচারীরা।
এ ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো, বহিনোঙরসহ বম্দরের সব স্থানে কাজ বন্ধ রয়েছে। আজ সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন গেটের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া দেন।
এনসিটির ইজারা ‘ডিপি ওর্য়াল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু করা শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত পালন করা হয়। এ কর্মবিরতির কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বন্দর কর্তৃপক্ষকে।
আন্দোলনে জড়িত ১৫ শ্রমিক-কর্মচারীকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।